বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আজ বুধবার বেলা সোয়া তিনটার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেলা ৩টা ১০ মিনিটে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. শেখ কবির মজুমদার তাঁর অনুসারীদের নিয়ে উত্তর সাতবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র দখল করতে যান। তখন তাঁর অনুসারীরা কয়েকটি ব্যালট পেপারে সিল মারেন। খবর পেয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আনারস প্রতীকের প্রার্থী কাজী মো. ইয়াছিনের অনুসারীরা সেখানে এসে বাধা দেন। তখন ডাকাতিয়া নদীর পাড় থেকে শেখ কবির মজুমদারের অনুসারীরা এলোপাতাড়ি সড়কের পাশের ভোটকেন্দ্র লক্ষ্য করে গুলি করেন। এই সময় বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রের সামনের সড়ক দিয়ে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে যাচ্ছিলেন কুমিল্লার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন রীমা। এই সময় গুলি তাঁর মাইক্রোবাসের পেছনের অংশে লাগে। মাইক্রোবাসের কাচ ভেঙে গুঁড়া হয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসাও উদ্ধার করা হয়। অল্পের জন্য বেঁচে যান মাইক্রোবাসে থাকা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, দুই পুলিশ সদস্য, এক অফিস সহকারী ও গাড়িচালক মো. ছগির।

জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের মাইক্রোবাসে এসে গুলি লাগে। এতে মাইক্রোবাসের পেছনের অংশের কাচ ভেঙে যায়। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এ সময় গাড়িতে বসা ছিলেন।

খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও র‍্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বেলা ৩টা ৪৫ মিনিটে উত্তর সাতবাড়িয়া ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পথে বিভিন্ন সড়কে ছেনি, লাঠি, লোহার পাইপ হাতে তরুণদের দেখা গেছে। ভোটকেন্দ্রের সামনে গিয়ে দেখা যায়, মাইক্রোবাসের ভাঙা কাচ সরাচ্ছেন গাড়িচালক মো. ছগির। সেখানে দাঁড়ানো ছিলেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন রীমা। তিনি বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে আসার পথে দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে পড়লাম। একপর্যায়ে চলন্ত মাইক্রোবাসে এসে গুলি লাগে।’

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘গুলির খোসা উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর অনুসারীদের মধ্যে ঝামেলা হয়।’

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী কাজী মো. ইয়াছিন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ কবির নিজে গুলি করতে করতে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেন। তাঁর সঙ্গে একদল দুর্বৃত্ত ছিল। এই ঘটনার জন্য শেখ কবির দায়ী।’
অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. শেখ কবির মজুমদার বলেন, ‘এটা আমার নিজের ভোটকেন্দ্র। এখানে আমি ঝামেলা করব কেন? আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন বলেন, দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর লোকদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। ঘটনার পর ভোটকেন্দ্রে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীকে বসিয়ে রাখা হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন