বিজ্ঞাপন

অভিযোগে বলা হচ্ছে, ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলতাব হোসেন আকন্দ ঘর বরাদ্দের তালিকা তৈরি করেছেন। তবে চেয়ারম্যান সে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন ভূমি অফিসের সুপারিশের ভিত্তিতে তিনি তালিকা করেছেন। আর ভূমি অফিসের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেছেন, ভূমি অফিস শুধু খাসজমি শনাক্ত করেছে।

সিংড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ছাতারদীঘি ইউনিয়নে ‘ক’ শ্রেণির ৬০ জন ভূমিহীন (যাঁদের জমি নেই, বাড়িও নেই) পরিবারকে জমি ও ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সে তালিকা ধরে ৭, ৮ ও ১০ মে ইউনিয়নের কুমিড়া, সৈয়দপুর, একলাসপুর ও পাউলা গ্রামে যান প্রতিবেদক। এই ৪ গ্রামের ৯টি পরিবারে খোঁজ নিয়ে তাদের নিজস্ব জমি ও বাড়ি থাকার তথ্য পাওয়া যায়।

কুমিড়া গ্রামে জাবেদ আলীর মতো ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন আনিছুর রহমান। তাঁর রয়েছে তিন বিঘা জমি। তালিকায় তাঁকে ভূমিহীন উল্লেখ করা হয়েছে। আনিছুরের ভাতিজা মো. আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, এই ঘর তাঁকে বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলে আনিছুর রহমান ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আনিছুর রহমান ঘর পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

সৈয়দপুর গ্রামে জায়েদা বেগম নামের এক নারী তিন ছেলেকে নিয়ে দোতলা মাটির বাড়িতে বসবাস করেন। প্রতিবেশীদের ভাষ্য, নিজের বাড়ি ছাড়াও জায়েদার চার বিঘা জমি রয়েছে। একই গ্রামের আবেদা বেগম ও আজাদুল সরদার সম্পর্কে মা-ছেলে। তাঁরা মাটির দোতলা বাড়িতে বসবাস করেন। মাঠে ১০ কাঠা ফসলি জমিও আছে। আবেদা ও আজাদুল স্থানীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য পারভীন বেগমের আত্মীয়। পারভীন তদবির করে ঘর পাইয়ে দিয়েছেন বলে জানান আবেদা ও আজাদুল। একই গ্রামের আদরী খাতুনের বাবা এবং স্বামীর বাড়ি ও জমি থাকলেও ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন।

ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সখিনা বেগম। তিনি একলাসপুর গ্রামের বাসিন্দা। একই গ্রামে ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন রবিউল সোনার। সরকারি ঘর বরাদ্দের বিষয় নিয়ে অভিযোগ আছে কয়েকজন ইউপি সদস্যের। তাঁরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঘরের ব্যাপারে তাঁরা কিছুই জানেন না। কারা ঘর পাচ্ছেন তা চেয়ারম্যানই ভালো বলতে পারবেন। তাঁরা শুধু খাতায় স্বাক্ষর করেন মাত্র।

তালিকা তৈরির বিষয়ে চেয়ারম্যান আলতাব হোসেন আকন্দ বলেন, ভূমি অফিস ভুল তথ্য দিলে তাঁর কিছু করার নাই। বাড়ি ও জমি আছে এমন ব্যক্তিদের ঘর বরাদ্দ দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনেক আগে দোতলা বাড়ি করিছিল। এখন ভাঙি গিছে। তাদের অবস্থা এখন খারাপ। তাই ঘর বরাদ্দ দিছি।’

সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম এম সামিরুল ইসলাম বলেন, ভূমি অফিসের দায়িত্ব শুধু খাসজমি শনাক্ত করা। সেখানে কে ঘর পাবেন, এর তালিকা করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। যদি অযোগ্য কোনো লোকের নাম চেয়ারম্যান তালিকায় দিয়ে থাকেন, তাহলে তদন্ত করে তা বাতিল করা হবে। নিবন্ধন ও নামজারির আগপর্যন্ত কেউ জমি বা ঘরের মালিক হতে পারবেন না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন