default-image

নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক বাবুল মিয়া।

সিআইডি নারায়ণগঞ্জের বিশেষ পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, তদন্তভার গ্রহণের পর থেকে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে মসজিদ কমিটির সভাপতি আবদুল গফুরসহ ২৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগত্র দাখিল করা হয়। তিতাস গ্যাসের আটজন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অভিযুক্ত হওয়ায় উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

নাছির উদ্দিন আরও বলেন, মসজিদ পরিচালনা কমিটির অবহেলা-অব্যবস্থাপনা, উদাসীনতা, সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করা, অবৈধ বিদ্যুৎ-সংযোগ ঝুঁকিপূর্ণভাবে লাগানো, গ্যাসের উপস্থিতি পেয়েও মুসল্লিদের জীবনের নিরাপত্তায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নেওয়া এবং ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মিটার রিডার কালেক্টর ও ইলেকট্রিশিয়ানদের মসজিদে অবৈধ বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়াসহ তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বে অবহেলা, গ্যাসলাইনের সঠিকভাবে তদারকি না করা, পাইপের লিকেজ মেরামত না করা এবং গ্যাসলাইন ঝুঁকিপূর্ণভাবে স্থাপন-স্থানান্তর করার কারণে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৩৪ জন মুসল্লি নিহত ও ৪ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন বলে তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

অভিযুক্তরা হলেন আবদুল গফুর মিয়া (৬০), সামসুদ্দিন সরদার (৬০), শামসু সরদার (৫৭), শওকত আলী (৫০), অসিম উদ্দিন (৫০), জাহাঙ্গীর আলম (৪০), শফিকুল ইসলাম (৪৫), নাঈম সরদার (২৭), তানভীর আহমেদ (৪৫), আল আমিন (৩৫), আলমগীর সিকদার (৩৫), মাওলানা আল আমিন (৪৫), সিরাজ হাওলাদার (৫৫), নেওয়াজ মিয়া (৫৫), নাজির হোসেন (৫৬), আবুল কাশেম (৪৫), আবদুল মালেক (৫৫), মো. মনিরুল (৫৫), স্বপন মিয়া (৩৮), আসলাম আলী (৪২), আলী তাজম (মিল্কী) (৫৫), মো. কাইয়ুম (৩৮), মামুন মিয়া (৩৮), দেলোয়ার হোসেন, বশির আহমেদ (২৮), মো. রিমেল (৩২), আরিফুর রহমান (৩০), মোবারক হোসেন (৪০) ও রায়হানুল ইসলাম (৩৬)।

বিজ্ঞাপন

সিআইডির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টায় শহরের পশ্চিম তল্লায় বাইতুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে ৩৭ জন মুসল্লি ও একজন পথচারী অগ্নিদগ্ধ হন। তাঁর মধ্যে ৩৪ জনের ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় এবং ৪ জন নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন আছেন। অগ্নিকাণ্ডে মসজিদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), থাই গ্লাসসহ বিভিন্ন জিনিস আগুনে পুড়ে ক্ষতি হয়। মামলাটি জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় ঘটনার ১০ সেপ্টেম্বর তদন্তের দায়িত্ব নেয় সিআইডি।

তদন্তকালে সিআইডি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করে এবং অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ উদ্‌ঘাটন করে। সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তিতাস গ্যাসের আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ডিপিডিসির একজন মিটার রিডার, দুজন ইলেকট্রিশিয়ানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ইলেকট্রিক মিস্ত্রি মোবারক ও রায়হান অবৈধ বিদ্যুৎ–সংযোগের বিরুদ্ধে অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পাওয়ায় মসজিদ কমিটির সভাপতি আবদুল গফুরকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেওয়া হয়।

অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ নিয়ে সিআইডি বলছে, বিস্ফোরণের ঘটনার প্রায় তিন মাস আগে মসজিদের পাশে তিতাস গ্যাসের পাইপের লিকেজ থেকে গ্যাস বের হয়ে মসজিদের ভেতরে জমা হতে থাকে। বাধাহীনভাবে গ্যাস উদ্‌গিরণ হয়ে মসজিদ গ্যাস চেম্বারে পরিণত হয়। ঘটনার ৭-৮ দিন আগে থেকে গ্যাসের তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে মুসল্লিরা বিষয়টি মসজিদ কমিটিকে জানান। কিন্তু মসজিদ কমিটি কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ঘটনার দিন এশার নামাজের সময় বৈধ বিদ্যুৎ লাইন চলে গেলে ম্যানুয়েল চেঞ্জ ওভারের মাধ্যমে অবৈধ বিদ্যুৎ লাইন চালু করা হলে বিদ্যুতের স্পার্ক হয়। তখন বিদ্যুতের স্পার্ক ও মসজিদে জমে থাকা গ্যাসের সমন্বয়ে অগ্নিকাণ্ড হয়।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, মসজিদের বিস্ফোরণের ঘটনায় সিআইডির কর্মকর্তা মামলার আলামতসহ অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে অভিযোগপত্র তোলা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন