করুণা মণ্ডলের বাড়ি উপজেলার সুকদাড়া গ্রামে। মেলায় বসে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, সারা বছরই বাড়ির আঙিনা ও খেতে বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ফলের চাষ করা হয়। বীজগুলো সংগ্রহে রাখেন পরবর্তী সময়ে আবার লাগানোর জন্য। কয়েক বছর ধরে তিনি এভাবে বীজ সংরক্ষণ করছেন। এভাবে বীজ সংরক্ষণে থাকায় সাধারণত কোনো ফসল লাগানোর জন্য আলাদা করে বীজ কিনতে হয় না বা বীজের জন্য কারও ওপর নির্ভর করতে হয় না। তা ছাড়া হাতের কাছে বীজ থাকলে যেকোনো সময় তা রোপণ করা যায়।

করুণা মণ্ডলের পাশেই বসে ছিলেন অর্পণা সরকার। তাঁর বাড়িও একই গ্রামে। তিনি ৬৬ জাতের বীজ নিয়ে হাজির হয়েছিলেন মেলায়। তিনি বলেন, বীজ সংরক্ষণ করতে শেখার পর থেকে সাধারণত সারা বছরই বাড়িতে সবজি ও ফল থাকে। বাজার থেকে খুব বেশি সবজি কেনার প্রয়োজন হয় না।

এ মেলায় লক্ষ্মী রানী মণ্ডল নিয়ে আসেন ২৪৮ জাতের বীজ। সামনে সাজানো বিভিন্ন জাতের বীজ আর মাথার ওপর দেয়ালে সাঁটানো কর্ক শিটে লেখা ‘লক্ষ্মী বীজ ভান্ডার’। লক্ষ্মী রানী মণ্ডল বলেন, কয়েক বছর ধরে এ ধরনের বীজমেলার আয়োজন করা হচ্ছে। এতে বাড়ির গৃহিণীরা আরও বেশি বীজ নিজেদের সংগ্রহে রাখতে আগ্রহী হচ্ছেন।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, বটিয়াঘাটা উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ১৭টি গ্রামের নারীরা এ বীজমেলায় অংশ নিয়েছিলেন। সাধারণত দেশি জাতের বীজ সংরক্ষণকারী ব্যক্তিদের মধ্যে সমন্বয় করার জন্য প্রতিবছর এ ধরনের মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। গত দুই বছর কোভিডের কারণে বীজমেলা করা সম্ভব হয়নি। তবে এ বছর স্বল্প পরিসরে হলেও আবার শুরু করা হয়েছে। আগে বীজমেলায় শতাধিক নারী-পুরুষ বীজ নিয়ে হাজির হতেন। কিন্তু এ বছর তরমুজ চাষে ব্যস্ত থাকায় অনেকেই মেলায় আসতে পারেননি। মেলায় সবচেয়ে বেশি বীজ সংরক্ষণকারী তিনজনকে পুরস্কৃত করা হয়।

এ মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বটিয়াঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম। লোকজের নির্বাহী পরিচালক দেবপ্রসাদ সরকার এতে সভাপতিত্ব করেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন