বিজ্ঞাপন

রুমা বেগম জানান, রুমার বয়স যখন ১৮ মাস, তখন মা–বাবার বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর রুমাকে নিয়ে তাঁর মা পিরোজপুর শহরে চলে যান। একটু বড় হওয়ার পর মা দ্বিতীয় বিয়ে করে চলে যান। এরপর তিনি মানুষের বাড়িতে কাজ শুরু করেন। আট বছর আগে রুমার সঙ্গে বিয়ে হয় বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার রনি হাওলাদারের। একমাত্র সন্তান ইব্রাহিমের বয়স যখন ছয় মাস, তখন রনি হাওলাদার স্ত্রীকে ফেলে চলে যান। এ সময় সন্তানকে নিয়ে তিনবেলা খাওয়া রুমার জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। রুমা সিদ্ধান্ত নেন ভ্যানে করে বাসাবাড়িতে খাবার পানি পৌঁছে দেওয়ার। তবে পৌরসভা থেকে পানি সরবরাহ বিভিন্ন মহল্লায় পৌঁছে যাওয়ায় রুমার কাজ কমে যায়। এরপর শহরের দামোদর সেতু এলাকায় দুলাল সিকদারের পরিচালিত করাতকলে যোগাযোগ করেন রুমা। মিলের কাঠ পরিবহন করে যা পান, তা দিয়ে মা ছেলে খেয়েপরে বেঁচে আছেন।

রুমা আক্তার বলেন, অনেক ক্রেতা তাঁর ভ্যানে কাঠ পরিবহন করতে চান না। অনেকে কম ভাড়া দেন। নারী হওয়ায় হয়তো এ বৈষম্য। তবে করাতকলের পরিচালক দুলাল সিকদার ভালো মানুষ। তিনি সুখে–দুঃখে পাশে থাকেন।

পিরোজপুর জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সালমা রহমান বলেন, ‘আমরা তাঁর জন্য কিছু করার চেষ্টা করব।’

সদরের ইউএনও বশির আহমেদ বলেন, রুমাকে একটি ঘর দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। তবে শহর থেকে দূরে হওয়ায় তিনি যেতে চাইছেন না। শহরের আশপাশে খাসজমি পেলে তাঁকে একটি ঘর করে দেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন