বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

কৃষক মোতালেব হোসেন বলেন, ‘হাতির ভয়ে ১৫ দিন ধইরা আমরা খেতের পাশে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছি। কিন্তু গত মঙ্গলবার রাইতে হাতির দল আমার ও আরও দুই কৃষকের খেতের ফসল খাইয়া শেষ কইরা ফালাইছে। এত কষ্টের ফসল চোখের সামনে শেষ হইয়া গেল।’

কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় কৃষকেরা এ মৌসুমে পাহাড়ের ঢালে প্রায় ১০০ একর জমিতে আমন আবাদ করেছিলেন। ধান ঘরে তুলতে আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি আছে। বন্য হাতির ভয়ে ইতিমধ্যেই কয়েকজন কৃষক আধা পাকা ধান কেটে বাড়িতে নিয়ে গেছেন। বাকি কৃষকেরা খেতের পাশে চালা করে ১৫ দিন ধরে রাত জেগে ফসল পাহারা দিচ্ছেন।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে পাহাড়ের টিলা থেকে ছোট–বড় প্রায় ৪০টি হাতির দল পানিহাটা পাহাড়ের ঢালে নেমে আসে। এ সময় পাহাড়ের ঢালে কৃষক আবদুল খালেকের দেড় একর, মোতালেব হোসেনের ৩ একর, মোরশেদ মিয়ার ৩৫ শতক, হজরত আলীর ৭৫ শতক, জয়নাল আবেদিনের ১ একর ও সুরুজ মিয়ার ১ একর জমির ফসল নষ্ট করেছে বলে স্থানীয় লোকজন দাবি করছেন।

default-image

খেতের ফসল রক্ষা করতে গিয়ে সুরুজ মিয়া নামের স্থানীয় এক কৃষক হাতির আক্রমণে আহত হয়েছেন। এলাকাবাসীরা ঢাকঢোল পিটিয়ে, হইহুল্লোড় করে, পটকা ফুটিয়ে ও ঢিল ছুড়ে হাতি তাড়ানোর জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।

জানতে চাইলে ময়মনসিংহ বন বিভাগের মধুটিলা ইকোপার্কের রেঞ্জার আবদুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, ইতিমধ্যে বন্য হাতির আক্রমণে পানিহাটা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা বন বিভাগের কাছে আবেদন করেছেন। গত তিন দিনে আরও যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, থানায় জিডি করে বন বিভাগের ফর্মে আবেদন করলে পরবর্তী সময়ে সরকারিভাবে তাঁদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হেলেনা পারভীন প্রথম আলোকে বলেন, ইতিমধ্যে হাতি তাড়াতে কৃষকদের চার্জার লাইট দেওয়া হয়েছে। মশাল জ্বালাতে কেরোসিন তেল দেওয়া হয়েছে। এরপর বন্য হাতির আক্রমণে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের তালিকা পেলে সরকারিভাবে সহযোগিতা করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন