চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাবুদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, আসামি সাইদুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পিবিআই পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের মূল সন্দেহভাজনদের একজন মুছা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ। তাঁরই ভাই সাইদুল ইসলাম সিকদার। মিতু হত্যার পর তাঁর স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার যে মামলা করেছিলেন, সেই মামলার তদন্তে এই দুই ভাইয়ের নাম আসে। ওই ঘটনার সপ্তাহখানেক পর সাইদুল গ্রেপ্তার হয়ে পরে জামিনে মুক্তি পান। গত মে মাসে সাইদুলকে আবার গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রামের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, মাহমুদা হত্যার বিষয়ে সাইদুলের কাছে তথ্য জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘটনায় অংশ নেওয়া মুছার ভাই তিনি। পলাতক মুছার বিষয়ে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হবে।

২০১৬ সালের ৫ জুন বড় ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড় এলাকায় মাহমুদাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী ছিল ১২ বছর বয়সী বড় ছেলে। মাহমুদা হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর স্বামী বাবুল আক্তার বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন। ডিবি পুলিশের পর গত বছরের মে মাস থেকে মামলাটি তদন্ত শুরু করে পিবিআই। চলতি বছরের ১২ মে এই মামলায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় পিবিআই। এতে বলা হয়, তিন লাখ টাকা দিয়ে স্ত্রীকে খুন করান বাবুল।

ওই দিনই বাবুলের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে বাবুলসহ আটজনকে আসামি করে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন। এই মামলায় বাবুলকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে হাজির করা হলে তিনি জবানবন্দি দিতে রাজি হননি। গত ১৭ মে থেকে কারাগারে আছেন বাবুল।