বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নুসরাত বলে, ‘আমি পড়াশোনা শেষ করে আত্মনির্ভর হতে চাই। এ কারণে বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে থানায় গিয়েছিলাম। থানায় গিয়ে বিয়ে বন্ধ করার পর স্থানীয় কিছু মানুষ আমাকে নিয়ে নানা কটু কথা বলেছে। কেউ কেউ গ্রাম থেকে বের করে দেওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন আমার পাশে দাঁড়ানোর কারণে আমাকে গ্রাম ছাড়তে হয়নি। আমার সামনে এসে কেউ কটূক্তি করার সাহস পায়নি। প্রশাসনের সহযোগিতা ও ভূমিকায় আমি অনুপ্রাণিত হয়েছি। পড়াশোনা করার সাহস পেয়েছি।’

ইউএনও বশির আহমেদ বলেন, নিজের বাল্যবিবাহ ঠেকাতে নুসরাত যে সাহসের পরিচয় দিয়েছে, সে জন্য প্রশাসন তাকে সংবর্ধনা দিয়েছে। তাকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও উপজেলা প্রশাসন তার পাশে থাকবে। এ ছাড়া নুসরাতের মা রোকসানা বেগমকে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের আয় বর্ধন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাঁকে সেলাইয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর সেলাই মেশিন দেওয়া হবে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ওহেদাবাদ গ্রামের ভ্যানচালক আবদুর রহমানের মেয়ে নুসরাত স্থানীয় নূরুন-আলা নূর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। পরিবার তার বিয়ে ঠিক করলে সে বিয়ে ভেঙে দিতে বলে। কিন্তু তার পরিবার এতে রাজি হয়নি। এ অবস্থায় ১৩ ডিসেম্বর রাতে নুসরাত নিজের বিয়ে বন্ধ করার জন্য স্থানীয় থানায় গিয়ে হাজির হয়। থানার ওসি সব কথা শুনে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তাকে খবর দেন এবং মেয়েটির মা–বাবাকে থানায় ডেকে পাঠান। পরে নুসরাতের মা থানায় গিয়ে মেয়েকে বাল্যবিবাহ না দেওয়ার জন্য মুচলেকা দেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন