default-image

যশোরে ভৈরব নদের প্রবহতা ফিরিয়ে আনতে অপরিকল্পিত সেতু-কালভার্ট অপসারণ ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খননকাজ শেষ করার দাবি জানানো হয়েছে। ভৈরব নদ খনন পর্যবেক্ষণবিষয়ক প্রেস মিটে জনউদ্যোগ যশোরের প্রতিনিধিরা আজ সোমবার দুপুরে এই দাবি জানান। যশোর শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া সড়কে সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ প্রেস মিট অনুষ্ঠিত হয়।

এতে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ-প্রতিবেশ, কৃষি-সংস্কৃতি, জীবন-জীবিকা, চলাচল-যোগাযোগ, শিল্প, মৎস্যজীবীদের ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুরই বিস্তারে ভৈরব নদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। এই নদ যশোরের ঐতিহ্য। ঐতিহ্যবাহী এই নদের নাব্যতা ফেরানোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত অনুযায়ী ২০১৬ সালে ২৭২ কোটি টাকার একটি খনন প্রকল্প গ্রহণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। শুরু হয় পাঁচ বছর মেয়াদি ‘ভৈরব রিভার বেসিন এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প’। এ প্রকল্পের আওতায় ৯২ কিলোমিটার নদ খনন করা হচ্ছে। পাউবোর তথ্যানুযায়ী ইতিমধ্যে নদের উজান ও ভাটির ৭০ কিলোমিটারের বেশি কাজ প্রায় শেষ হয়েছে।

নদের ওপরে অপরিকল্পিতভাবে স্থাপিত ছোট ছোট সেতু-কালভার্ট অপসারণের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, ভৈরব নদের মরণাপন্ন অবস্থা থেকে রক্ষা করতে জলপথ সংরক্ষণ ও নদের গভীরতা বাড়িয়ে নদের দুই ধারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, নদে অবস্থিত ছোট ছোট সেতু-কালভার্টের অপসারণের বিকল্প নেই। নদের প্রস্থ অনুযায়ী সেতু নির্মাণ করতে হবে। একই সঙ্গে নদের পানির প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য যা করা দরকার, তা বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, ভৈরব নদ খনন প্রকল্পের মেয়াদ ২০২০ সালের ২০ জুন শেষ হয়। এরপর দুই দফায় সময় বাড়ানো হয়। বর্তমানে ২০২২ সালের ২২ জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। নদের ম্যাপ অনুযায়ী ভৈরব নদের প্রস্থ গড়ে শহরাংশে ১৫০ মিটার এবং উপজেলায় ৩০০ মিটার পর্যন্ত রয়েছে। কিন্তু সেতু-কালভার্ট নির্মিত হয়েছে ১২ থেকে ৭০ মিটার দৈর্ঘ্যে। এতে নদীর গতিপথ কমেছে। দখল ও দূষণও হয়েছে।

প্রেস মিটে লিখিত বক্তব্য দেন জনউদ্যোগ যশোরের আহ্বায়ক নাজির আহমদ। সূচনা বক্তব্য দেন সাংবাদিক রুকুনউদ্দৌলাহ্। উপস্থিত ছিলেন সিপিবির জেলা সভাপতি আবুল হোসেন, বংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যশোর জেলা সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।

প্রেস মিটে নাজির আহমদ বলেন, ‘আমরা চাই আর যেন নানা অজুহাতে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো না হয়। কাজ সম্পন্নের লক্ষ্যে তদারকি জোরদার করা এবং বাকি যেসব অবৈধ স্থাপনা এখনো বিদ্যমান সেগুলোর দ্রুত অপসারণ করা হোক। এ ছাড়া তৃতীয় দফায় বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ না হলে যশোরবাসীকে নিয়ে আমাদের আন্দোলনে যাওয়ার বিষয়টি ভাবতে হবে।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, তাঁরা ইতিমধ্যে ৫১টি অপরিকল্পিত সেতু-কালভার্ট চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে ২৯টি অপসারণ করতে হবে। এগুলো অপসারণ না করা হলে ভৈরব খননের যে সুফল, তা শতভাগ পাওয়া যাবে না। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া ভৈরব নদের দ্বিতীয় পর্যায়ে খননের আরেকটি নতুন প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। সেই প্রস্তাবে এসব সেতু-কালভার্ট অপসারণের বিষয় উল্লেখ থাকবে। সেই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন