নির্ধারিত তারিখেও এসে টিকা নিতে না পেরে হতাশ টিকাপ্রত্যাশীরা

দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর টিকা শেষের ঘোষণা ঠিক মানতে পারেননি তাঁরা। তাই টিকাকেন্দ্রে প্রবেশের পথে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন অনেকে। বুধবার দুপুরে বাগেরহাট সদর হাসপাতাল করোনা টিকাদান কেন্দ্রে
ছবি: ইনজামামুল হক

বুধবার দুপুর ১২টা। বাগেরহাট সদর হাসপাতাল টিকাদান কেন্দ্রে প্রবেশের পথে তখনো শতাধিক লোকের সারি। সবাই এসেছিলেন করোনার টিকা নিতে। তাঁদের অনেকে রোদ উপেক্ষা করে টিকার জন্য সেখানে দাঁড়িয়েছেন সকাল ১০টার আগে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টিকা পাননি তাঁরা।

তবে কবে টিকা মিলবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে আর কিছু জানানো হয়নি তাঁদের। তাঁরা সবাই টিকা দেওয়ার নির্ধারিত তারিখেও এসে টিকা দিতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।  

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শূন্যে পৌঁছেছে বাগেরহাট সদরে করোনাভাইরাসের টিকার মজুত। বৃহস্পতিবার এই কেন্দ্রে টিকা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় মজুত নেই। অবশ্য টিকার মজুত কমে আসায় কয়েক দিন ধরে কম পরিমাণের টিকা দেওয়া হচ্ছে জেলায়। আগে যেখানে জেলায় দৈনিক পাঁচ হাজার টিকা দেওয়া হচ্ছিল। সেখানে গেল কয়েক দিন টিকা দেওয়া হচ্ছিল দেড় হাজারের মতো।

তবে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, চাহিদাপত্র দেওয়া আছে। এক সপ্তাহের মধ্যেই টিকা চলে আসবে।

গত ১১ জুলাই সিনোফার্মের টিকা দিয়ে দ্বিতীয় দফায় গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু হয় বাগেরহাটে। এর আগে চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি সারা দেশের মতো বাগেরহাটে করোনার টিকাদান শুরু হয়। তখন টিকা নিতে জেলার ৯০ হাজার ৪৭১ জন নিবন্ধন করেন। তাঁদের মধ্যে ৫৪ হাজার ৭৮৪ জন অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নেন। মজুত শেষ হওয়াতে তখন ১৪ হাজার ৩০ জন ওই টিকার দ্বিতীয় ডোজের জন্য অপেক্ষমাণ ছিলেন। চার-পাঁচ মাস পর চলতি মাসের শুরুতে তাঁরা টিকা পেয়েছেন।

সিনোফার্মের টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিতে এসে বুধবার টিকা শেষ শুনে অনেকের মধ্যে একই ধরনের শঙ্কা দেখা গেছে। সদর উপজেলার খানপুর এলাকার বিধান চন্দ্র দাস (৫৩) বলেন, ‘সকালে ১০টায় এসে এখানে দাঁড়িয়েছি। কী রোদ তো দেখছেন। এখন বলা হচ্ছে টিকা শেষ। আমার তো দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া কথা ছিল ৩০ আগস্ট। সেদিন বন্ধ থাকায় টিকা দিতে পারিনি। এখন বলছে টিকা শেষ।’

বাগমারা এলাকার কৃষ্ণ কিশোর সেনও (৬৫) এসেছিলেন টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিতে। টিকা না পেয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এখানে কোনো ব্যবস্থাপনা নেই। অনেকে এসেই টিকা পেয়ে যান। তাঁদের ভেতরে লোক আছে। অন্য দরজা দিয়ে ঢুকতে পারে। আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে টিকা পাই না। অন্তত যাঁরা প্রথম ডোজ দিয়েছেন, তাঁদের জন্য দ্বিতীয় ডোজ তো মজুত রাখা উচিত ছিল।’

তবে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, দ্রুত সময়ের মধ্যেই টিকা চলে আসবে। তাঁরা আশা করছেন, আগামী সপ্তাহ থেকে আবার টিকাদান শুরু করা যাবে।

এ বিষয়ে বাগেরহাটের সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) মো. হাবিবুর রহমান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রথম থেকেই বাগেরহাটে টিকার জন্য ব্যাপক চাহিদা ছিল। সাধারণ মানুষের আগ্রহ থাকায় অন্য অনেক জেলা থেকে এখানে আমরা বেশি মানুষকে টিকার আওতায় আনতে পেরেছি। আমাদের সদর উপজেলাতে আজ টিকার মজুত শেষ হয়েছে। তাই বৃহস্পতিবার সদর হাসপাতাল কেন্দ্রে টিকাদান বন্ধ থাকছে। তবে অন্য যে উপজেলাতে মজুত আছে, সেখানে টিকাদান চলবে। আশা করছি দু–এক দিনের মধ্যেই আমরা টিকা পেয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে আগামী সপ্তাহ থেকে আবার টিকাদান কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।’