বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মইনুল ইসলাম জানান, তাঁর বাবার সঙ্গে মেয়র আবদুল কাদের মির্জার কোনো ধরনের বিরোধ নেই। এরপরও কেন তিনি এভাবে তাঁর বাবার ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন, তা তাঁরা বুঝে উঠতে পারছেন না। তার বাবার ওপর শুধু নির্যাতনই চালানো হয়নি, মুঠোফোন ও মোটরসাইকেলটিও নিয়ে গেছেন কাদের মির্জা ও তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা। তিনি জানান, পুরোপুরি জ্ঞান ফেরার পর ঘটনার বিস্তারিত জেনে মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

সাইফুল ইসলাম সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছিলেন। ওবায়দুল কাদেরের প্রতি সম্মান জানিয়ে তখন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। আজ সেই সম্মানের নির্মম প্রতিদান দিলেন ওবায়দুল কাদেরের ভাই কাদের মির্জা।
বোরহান উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক, নোয়াখালী জেলা জাতীয় পার্টি

উপজেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের ওপর নির্যাতনের ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন। তিনি বলেন, নির্যাতনের ঘটনার ছবি দেখে বোঝা যায়, তাঁর ওপর কতটা নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে। জেলা জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিবকে ঘটনাটি অবহিত করা হবে। পাশাপাশি দলীয়ভাবে বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে জানানো হবে। এই নৃশংস নির্যাতনের ঘটনার উপযুক্ত বিচার চান তাঁরা।

বোরহান উদ্দিন বলেন, সাইফুল ইসলাম একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছিলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের প্রতি সম্মান জানিয়ে তখন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। আজ সেই সম্মানের নির্মম প্রতিদান দিলেন ওবায়দুল কাদেরের ভাই কাদের মির্জা।

ঘটনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী শুক্রবার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, তিনি পত্রিকায় দেখেছেন। এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুদ্দিন আনোয়ার শুক্রবার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, তিনি জাপা নেতার ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। ছেলে ঘটনার বিষয়ে কিছু বলতে পারেনি।

গত বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে জাপা নেতা সাইফুল ইসলামকে বসুরহাট বাজারের কালামিয়া ম্যানশন নামের একটি বিপণিবিতানের সামনে থেকে কাদের মির্জার নেতৃত্বে তাঁর অনুসারীরা তুলে নিয়ে যান। এরপর রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পৌরসভা ভবনের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে তাঁকে আটকে রেখে নির্মম নির্যাতন চালানো হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আবদুল লতিফকে ডেকে পাঠিয়ে তাঁর কাছে হস্তান্তর করেন।

এরপর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। সেখান থেকে তাঁকে আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিরাপত্তাহীনতার কারণে ভর্তি না করিয়ে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। এখন বাসায় তাঁর চিকিৎসা চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন