বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গতকাল রাতের ওই উঠান বৈঠকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের টিকিট নিয়ে আপনাদের কাছে এসেছি, আপনাদের কাছে ভোট দাবি করতেছি। আপনারা আগামী ২৬ তারিখে ইনশা আল্লাহ আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। কেন্দ্র অতে লই যাইব, হেতে লই যাইব, এগুলা সম্পূর্ণ খামাখা কথা বইলতেছে কিছু লোকে। কারণ, কেন্দ্র দখল কইরলে আমরা করব। জোর করে ভোট নিতে হইলে আমরা নিব। কারণ, আমরা সরকারের প্রতিনিধি।’ ওই বক্তব্যের ভিডিও রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

উঠান বৈঠকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘কেন্দ্র দখল কইরলে আমরা করব। জোর করে ভোট নিতে হইলে আমরা নিব। কারণ, আমরা সরকারের প্রতিনিধি।’

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান আজ সোমবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ওই প্রার্থীর বক্তব্যের ভিডিও এরই মধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি পেয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

চতুর্থ ধাপে ২৬ ডিসেম্বর সদর উপজেলার ৯টি ইউপি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হবে। ইতিমধ্যে ইউপিগুলোতে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। কাল মঙ্গলবার প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে দাদপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড পূর্ব বারাহিপুর এলাকায় নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন। সেখানে তিনি নিজের নেতা-কর্মী ও স্থানীয় ভোটারদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। ওই অনুষ্ঠানে দেলোয়ার হোসেনের কর্মী ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘কেন্দ্রের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করে দিব। নৌকার বিরুদ্ধে ভোট করলে তাঁদের তালিকা আমরা কড়ায়গন্ডায় গুনব এবং প্রশাসন তাদের ধরার জন্য সব সময় প্রস্তুত রয়েছে।’

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি অন্য প্রার্থীদের কেন্দ্র দখলের হুমকি-ধমকির কথা বলতে গিয়ে ওই কথা বলেছি, অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নয়। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মিজানুর রহমান ওরফে শিপনের লোকজন ওই বক্তব্য কেটে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে। আমি নিজেও চাই অবাধ সুষ্ঠু ভোট হোক। ভোটার যাঁকে পছন্দ করবেন, তাঁকে ভোট দিবেন।’

এ বিষয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী মিজানুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিজের মুখে কেন্দ্র দখলের কথা বলেছেন, যার ভিডিও ইতিমধ্যে সবখানে ছড়িয়ে পড়েছে। আমি কেন উনার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করব! শুধু এই ভিডিও নয়, আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইতিমধ্যে তাঁর সব নির্বাচনী পথসভা, শোডাউন, উঠান বৈঠকে ভোটের দিন জোরপূর্বক কেন্দ্র দখল করে ভোট ছিনিয়ে নেওয়া ও ভোটের আগে আমার কর্মীদের এলাকা ছাড়া করার ঘোষণা দিয়ে আসছেন।’

ভিডিওটি এখানে দেখুন

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন