ব্রিফিংয়ে বলা হয়, শুক্রবার ভোরে জেলার সুবর্ণচর উপজেলার চর ওয়াপদা ইউনিয়নের চর রশিদ গ্রাম থেকে রুবেলকে আটক করে বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজমুল হাসানের নেতৃত্বাধীন কোম্পানীগঞ্জ থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল। এরপর রুবেলের দেখানোমতে কোম্পানীগঞ্জের জামাইয়েরটেক নামের স্থান থেকে ওই কলেজছাত্রীর মুঠোফোন ও ভেঙে ফেলে দেওয়া সিম কার্ড ও রুবেলের রিকশা জব্দ করা হয়।

পুলিশ বলছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে কোম্পানীগঞ্জের সরকারি মুজিব কলেজের স্নাতক শ্রেণির ওই ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই ঘটনাটিকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে জেলা পুলিশ। এর অংশ হিসেবে প্রথমে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে মমিনুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে তাঁর কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তেমন কোনো তথ্য না পেয়ে তাঁকে দুদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

default-image

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক জ্যোতি খীসা বলেন, তদন্তের একপর্যায়ে বসুরহাটের যে বেসরকারি হাসপাতালে ওই কলেজছাত্রী চাকরি করতেন, ঘটনার রাতে (২৭ ফেব্রুয়ারি) তাঁকে হাসপাতালের সামনে থেকে হলুদ রঙের একটি ব্যাটারিচালিত রিকশায় চড়ে দক্ষিণ দিকে যেতে দেখা গেছে বলে একজন তথ্য দেন। এরপর অনুসন্ধান করে হলুদ রঙের রিকশাটির চালককে শনাক্ত করা হয়। পরে জানা যায়, ওই রিকশার চালক রুবেলকে কয়েক দিন ধরে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। পরবর্তীকালে প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে সুবর্ণচর উপজেলায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা।

অভিযান পরিচালনাকারী বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান ব্রিফিংয়ে বলেন, সন্দেহভাজন আসামি রুবেলের অবস্থান শনাক্ত করার পর আজ শুক্রবার ভোর পাঁচটার দিকে তিনি ডিবি ও কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ নিয়ে চর রশিদে শ্বশুরবাড়ি থেকে রুবেলকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল কলেজছাত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। একাই তিনি হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন বলে তথ্য দেন।

রুবেলের বরাত দিয়ে দীপক জ্যোতি খীসা বলেন, রুবেল বেশ কিছুদিন ধরে ওই ছাত্রীর ওপর নজর রাখছিলেন। ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে ওই ছাত্রী রুবেলের রিকশায় ওঠেন। রুবেল স্বাভাবিক চলাচলের রাস্তায় না গিয়ে বিকল্প আরেকটি রাস্তায় যেতে থাকেন। ওই ছাত্রী এতে আপত্তি জানালে রুবেল জানান, সেটি সবচেয়ে সোজা রাস্তা। একপর্যায়ে ওই ছাত্রী রিকশা থেকে নেমে খেতের মধ্য দিয়ে হাঁটা শুরু করেন। রুবেল পেছন থেকে তাঁর মুখ চেপে ধরেন। একপর্যায়ে ওড়না দিয়ে মুখ বেঁধে একাধিকবার ধর্ষণ ও পরে হত্যা করে লাশ সেখানে ফেলে পালিয়ে যান।

মেয়ের হত্যাকারী গ্রেপ্তার হওয়ার খবরে স্বস্তি প্রকাশ করে জেলা ও কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ওই ছাত্রীর বাবা। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তাঁর মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তিনি।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজ্জাদ রোমন প্রথম আলোকে বলেন, আটক রুবেলকে আজ শুক্রবার দুপুরের দিকে ওই কলেজছাত্রী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জের একটি কলেজের স্নাতকের ওই শিক্ষার্থী একটি বেসরকারি হাসপাতালে শিক্ষানবিশ নার্স ছিলেন। গত রোববার সকাল আটটায় কর্মস্থলের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। রাত আটটায় ফেরার কথা থাকলেও রাতে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সোমবার সকালে বসুরহাট পৌরসভা এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ধানখেতে তাঁর লাশ পাওয়া যায়। মুখমণ্ডলে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের নামে একটি হত্যা মামলা করেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন