চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌরসভার নির্বাচন ১৪ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্তমান মেয়র হাসান কাদির। প্রথম আলোকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে নির্বাচন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন নৌকা প্রতীকের এই প্রার্থী।
default-image

নির্বাচনের প্রস্তুতি কেমন চলছে?

হাসান কাদির: আমরা জণগণের সঙ্গে আছি। সবার কাছে ভোট প্রার্থনা করছি। দলীয় কর্মীরা সব ওয়ার্ডে ভোট চাইতে নেমেছেন। নৌকার কর্মীরা এখন মাঠে-ময়দানে। ভোটারদের ভেতর ভালো সাড়া আছে। মানুষ নৌকার সঙ্গে আছে।

এই নিয়ে তিনবার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অতীতের সঙ্গে এবারের নির্বাচনের মৌলিক কোনো পার্থক্য আছে?

হাসান কাদির: মৌলিক পার্থক্য হচ্ছে, এবার দলীয় প্রতীক নিয়ে ভোট করতে হচ্ছে।

ইভিএম নিয়ে মানুষের মধ্যে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখছেন?

হাসান কাদির: ইভিএমের বিষয়টি এখানে সবারই অজানা। সবার মধ্যেই একটা ভীতি কাজ করছে। ইভিএম বিষয়ে ভোটারদের বোঝার অভাব ও কৌতূহল আছে।

ইভিএম বিষয়ে ভোটারদের বোঝাতে কোনো উদ্যোগ নিয়েছেন কি?

হাসান কাদির: নৌকার কর্মীরাই বোঝাচ্ছে এবং বুঝিয়ে দেবে, ইভিএমে কীভাবে ভোট দিতে হয়। তবে শিগগিরই ভিডিও ক্লিপ ও ইভিএম পোস্টার নিয়ে প্রচারণা চালানো হবে।

বিজ্ঞাপন

ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নিতে বিশেষ কোনো উদ্যোগ নিয়েছেন?

হাসান কাদির: উদ্যোগ নেব। সেই কর্মপদ্ধতি নিয়ে আলাপ-আলোচনা ও পরিকল্পনা চলছে।

এখন পর্যন্ত যে অবস্থা, জয়ের ব্যাপারে কতটুকু আশাবাদী?

হাসান কাদির: দলের নেতা-কর্মীরা জোট বেঁধে কাজে লেগে গিয়েছেন। দলের সবাই আমার সঙ্গে আছে। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। প্রতিদ্বন্দ্বী দুজন প্রার্থী মাঠে আছেন। অতীতে এই দুজনের সঙ্গেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছি।

১ ফেব্রুয়ারি রাতে ধানের শীষ ও মোবাইল ফোনের কার্যালয়ে হামলার ঘটনাটিকে কীভাবে দেখছেন?

হাসান কাদির: এটা আমাদের কেউ করেনি। আমাদের বিরুদ্ধে একটা ষড়যন্ত্র হয়েছে। আমাদের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ষড়যন্ত্র করে একটি গোষ্ঠী ভোটারদের সামনে আমাদের হেয়প্রতিপন্ন করতে এসব করেছে। প্রশাসনকে আমরা সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।

২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে মুক্তিযোদ্ধা–জনতার ব্যানারে যে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে, সেখানে আপনার বাবাকে ‘মুক্তিযুদ্ধবিরোধী’ বলে মন্তব্য করা হয়েছে।

হাসান কাদির: বক্তারা গায়ের জোরে বানোয়াট কথা বলেছেন। যাঁরা বলেছেন, তাঁদের কাছে দালিলিক কোনো প্রমাণ নেই। আমার বাবা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী কোনো কার্যকলাপ করেছেন, এমন তথ্য আমার জানা নেই। মনেও হয় না। আলমডাঙ্গার ইতিহাসে কেউ বলতে পারবেন না।

ভোটারদের উদ্দেশে কিছু বলেন...

হাসান কাদির: আগেই বলেছি, একটি পক্ষ রিসেন্টলি আমাদের ভোটারদের সামনে হেয়প্রতিপন্ন করতে উঠেপড়ে লেগেছে। ইতিমধ্যে তারা বিক্ষোভ–প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে আমাদের নামে মিথ্যাচার করেছে। তবে ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হবেন না। ভোটারদের বিভ্রান্ত না হতে অনুরোধ করছি।

প্রথম আলো: সাক্ষাৎকার দেওয়ায় আপনাকে ধন্যবাদ।
হাসান কাদির: প্রথম আলোকেও ধন্যবাদ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন