default-image

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌরসভার নির্বাচনী প্রচারণা বেশ জমে উঠেছে। গত পৌর নির্বাচনে এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে মাত্র এক হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে যান বিএনপির প্রার্থী। এবার ফল উল্টে দেওয়ার কথা ভাবছে বিএনপি শিবির। তাদের আশা পূরণে এবার আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর অবদান থাকবে বলে মনে করছেন অনেকে। আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী থাকায় নৌকার প্রার্থী তেমন একটা সুবিধাজনক অবস্থানে নেই বলে মনে করছেন তাঁরা।

হারাগাছ পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র পদে তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী (নৌকা প্রতীক) ও বর্তমান মেয়র হাকিবুর রহমান, বিএনপির প্রার্থী (ধানের শীষ) মোনায়েম হোসেন ফারুক এবং আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী (নারকেলগাছ প্রতীক) এরশাদুল হক। এবারের ভোটে ত্রিমুখী লড়াই হবে বলে স্থানীয় ব্যক্তিরা মনে করছেন। আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী এরশাদুল হককে ভোটে শক্ত প্রার্থী মনে করছেন তাঁরা। তিনি কাউনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। সেই সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ মাজেদের ছোট ভাই তিনি।

তবে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হওয়ায় এরশাদুল হককে ইতিমধ্যে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কাউনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

গত রোববার নির্বাচনী এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা জমে উঠেছে। চারপাশ পোস্টারে ছেয়ে গেছে। হাটবাজারসহ প্রতিটি মহল্লায় ভোটারদের আলোচনায় ভোটের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে। তবে সবখানেই আলোচনা রয়েছে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীকে নিয়ে। হারাগাছ বাজারে কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে কথা হয়। স্কুলশিক্ষক মমতাজ উদ্দিন বলেন, মেয়র পদে তিন

প্রার্থীরই জোর রয়েছে। তবে এলাকায় উন্নয়নের জন্য এবার যার প্রতিশ্রুতি থাকবে, সেই প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

২০১৬ সালের পৌরসভা নির্বাচনেও মোনায়েম হোসেন ফারুক বিএনপির এবং হাকিবুর রহমান আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী ছিলেন। সেবার আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। মাত্র এক হাজার ভোটের ব্যবধানে মোনায়েম হাকিবুরের কাছে হেরে যান। এবার আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী এরশাদুল আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক থেকে ভোট কাটার মাধ্যমে বিএনপির প্রার্থী সুবিধা পাবেন বলে স্থানীয় মহলে আলোচনা চলছে। অনেক সাধারণ ভোটারের ভাষ্য, এই এলাকায় জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাংসদ বিশিষ্ট শিল্পপতি রহিম উদ্দিন ভরসার বাড়ি। তিনি মারা যাওয়ার পর এলাকায় এখনো তাঁর ব্যক্তি ইমেজসহ বিএনপির শক্ত জনসমর্থন রয়েছে।

বিএনপির প্রার্থী মোনায়েম হোসেন ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলে এবার আমার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না বলে আমার বিশ্বাস।’

আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এরশাদুল হক বলেন, ‘রাজনীতির মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিন থেকে কাজ করে আসছি। দল মনোনয়ন দেয়নি। তাতে আমি অসন্তুষ্ট নই। আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছি। দলের কোনো ক্ষতি করব না।’

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হাকিবুর রহমান বলেন, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগের বিকল্প নেই। তাই জনগণ পুনরায় নৌকা প্রতীককেই বেছে নেবেন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, এরপর এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পঞ্চম ধাপে ২৮ ফেব্রুয়ারি হারাগাছ পৌরসভার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবার সব কটি ভোটকেন্দ্রে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে। মেয়র পদে ৩ জন ছাড়া ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৪৮ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন