বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ইউপি নির্বাচনের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের উদ্দেশে সাংসদ ইব্রাহিম বক্তৃতায় আরও বলেন, ‘বড় বড় নেতা সাজি যায়, চেয়ারম্যান একটা পাঁচ বছরে বরাদ্দ পায় এক কোটি টাকা। হেতে কি...পালাইব। আট বছর আপনাদের পিছনে শ্রম দিছি, পরিশ্রম করছি। কেউ বলতে পারবেন? শেখ হাসিনার প্রতিনিধিকে আজ এই প্রতিদান দিচ্ছেন। নৌকা দেওয়ার মালিক কি আমরা? আপনি শেখ হাসিনার দল করবেন, আপনি এত বড় নেতা হয়ে গেছেন, আপনারা?’

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বক্তৃতার ভিডিওর বিষয়ে রোববার বেলা পৌনে একটার দিকে কথা হয় সাংসদ এইচ এম ইব্রাহিমের সঙ্গে। মুঠোফোনে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘ব্যাপারটা তা না, ওখানে আমাদের দলের একজন বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন। আমি নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে কোথাও যেতে পারি না। আমাদের এক নেতার বাড়ির ড্রয়িং রুমে আমরা ২৫-৩০ জন সিনিয়র নেতা, থানার নেতাই বেশি, সেখানে আমি বলেছি, আপনাদের ইউনিয়নে সরকারের এত উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড হয়েছে, সেখানে যদি নৌকা না জিতে পরবর্তী সময়ে কি আপনাদের এই ইউনিয়নে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করতে ইচ্ছা করবে? উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা বলে তাঁদের কনভিন্স (সন্তুষ্ট) করার জন্যই ওই কথাগুলো বলেছি।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন প্রার্থী। এর মধ্যে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন আওয়ামী লীগের মো. শহিদ উল্যা। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবিরের চাচাশ্বশুর। এ নিয়ে তিনি তৃতীয়বার নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এখানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী তিনজন। তাঁরা হলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া মাসুদ রানা (আনারস প্রতীক), একই দলের বোরহান উদ্দিন রাব্বানী (চশমা প্রতীক) ও মো. মেহেদী হাসান (অটোরিকশা প্রতীক)। এ ছাড়া হাতপাখা প্রতীক নির্বাচনী মাঠে আছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জহিরুল ইসলাম।

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুদ রানা প্রথম আলোকে বলেন, নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য সাংসদ কড়া ভাষায় যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে নৌকা ছাড়া অন্য সব প্রার্থী সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কার মধ্যে আছেন। একইভাবে সাধারণ ভোটাররাও রয়েছেন আতঙ্কের মধ্যে।

নোয়াখালী-১ আসনের অধীনে চাটখিল ও সোনাইমুড়ী উপজেলার আংশিক এলাকা আছে। পঞ্চম ধাপে উভয় উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে আওয়ামী লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন