জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা এমন তথ্য দিয়েছেন বলে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সোহান সরকার গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে জানিয়েছেন।

এদিকে গত সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে হত্যা মামলার দুই আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। বন্দুকযুদ্ধে নিহত দুজন হলেন মো. সাব্বির হোসেন (২৮) ও সাজন (৩২)। সোমবার রাত পৌনে একটার দিকে কুমিল্লার গোমতী নদীর বেড়িবাঁধসংলগ্ন সংরাইশ বালুমহাল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। সাব্বির হত্যা মামলার ৩ নম্বর এবং সাজন ৫ নম্বর আসামি। পুলিশ বলছে, সাজন কাউন্সিলর সোহেলের বুকের বাঁ পাশে গুলি করেছিলেন। আর সাব্বির সোহেলকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছিলেন।

পুলিশ কর্মকর্তা সোহান সরকার বলেন, সোমবার রাত সোয়া ১২টার দিকে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, কাউন্সিলর হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ও অজ্ঞাতনামা আসামিরা নগরের সংরাইশ ও নবগ্রামে অবস্থান করছেন। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও কোতোয়ালি মডেল থানা-পুলিশের একাধিক দল অভিযানে নামে। রাত পৌনে একটার দিকে পুলিশের সদস্যরা গোমতী নদীর বেড়িবাঁধের কাছে পৌঁছালে আসামিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালান। পুলিশও পাল্টা গুলি করে। গোলাগুলি বন্ধ হলে ঘটনাস্থলে দুই ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। পরে তাঁদের সাব্বির হোসেন ও সাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। গোলাগুলির সময় তিন পুলিশ সদস্য আহত হন।

২২ নভেম্বর বিকেলে নগরের পাথুরিয়াপাড়া থ্রিস্টার এন্টারপ্রাইজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কাউন্সিলর মো. সোহেল ও তাঁর সহযোগী হরিপদ সাহাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডে পুলিশ এ পর্যন্ত এজাহারভুক্ত পাঁচজন ও সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। আর বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন এজাহারভুক্ত দুই আসামি। বাকি চার আসামি শাহ আলম, সোহেল ওরফে জেল সোহেল, সায়মন ও রনি পলাতক আছেন।

গতকাল পাথুরিয়াপাড়া এলাকা ঘুরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুমিল্লা নগরের অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম পাথুরিয়াপাড়া, সংরাইশ, নবগ্রাম, সুজানগর ও বউবাজার। ভারতীয় সীমান্ত থেকে ওই এলাকাগুলোর দূরত্ব ছয় কিলোমিটার। সীমান্ত দিয়ে মাদক, শাড়ি ও প্রসাধনী এখানে প্রবেশ করে। কাউন্সিলর হওয়ার পর সোহেল মাদক কেনাবেচা ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে সোচ্চার ছিলেন। এই কারণে মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ বাড়ে, শত্রুতার সৃষ্টি হয়। এলাকায় মামলার সংখ্যা বাড়তে থাকে। মামলার আসামিরা মনে করতেন, তাঁদের পেছনে লেগে আছেন সোহেল।

এদিকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ৬ নম্বর আসামি আশিকুর রহমান ওরফে রকিকে নির্দোষ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। গতকাল বিকেলে নগরের নানুয়া দিঘির পাড়ের একটি বাসায় ওই সংবাদ সম্মেলন হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন