default-image

মৌলভীবাজারের কাউয়াদীঘি হাওরের দিকে যেতে গ্রামীণ সড়কের দুই পাশে অনেকগুলো জারুলগাছ দেখা গেছে। ফুলে ফুলে গাছগুলো সেজে আছে। বৃষ্টি পেয়ে সব প্রকার গাছেই এখন পাতার সমারোহ। সবুজ হয়ে আছে গ্রাম। সড়কের সঙ্গে, সড়কসংলগ্ন বাড়িগুলোতে এসব সবুজ গাছপালার ভেতর জারুলগাছ বেগুনি রঙের ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে, আলাদা নজরকাড়া। কোথাও একা দাঁড়ানো গাছে বাতাসে দুলছে ডালপালা, ফুল। হাওয়ার ঝাপটায় ফুলের পাপড়ি বাতাসে উড়ে যাচ্ছে। পথের ওপর, পথের পাশে ছড়িয়ে পড়েছে। কোথাও অন্য গাছগাছালির ভেতর দাঁড়িয়ে আছে দু-একটি জারুলগাছ।

হাওরপাড়ের গ্রাম অন্তেহরিতেই জারুলগাছ বেশি দেখা গেছে। গ্রামটি একেবারেই হাওর লাগোয়া। প্রায় বাড়িতেই, পথের পাশে দু–চারটা জারুলগাছ আছে। সেসব গাছে চলছে বেগুনি রঙের উচ্ছ্বাস, ফুল-পাপড়ির হাসি।

default-image

হাওরপাড়ের লোকজন জানালেন, একটা সময় কাউয়াদীঘি হাওরাঞ্চলের বাড়িগুলোতে প্রচুর জারুলগাছ ছিল। বিভিন্ন প্রয়োজনে অন্য গাছের সঙ্গে জারুলগাছও কাটা পড়েছে। এখন অনেক কমে এসেছে। তবে হারিয়ে যায়নি। বৈশাখ এলেই প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা জারুলগাছে বেগুনি রঙের জোয়ার আসে। তখন জারুলগাছকে আবার নতুন করে চেনার, দেখার সুযোগ ঘটে। ফুল ফোটার পর অনেক দিন গাছে ফুল থাকে। হাওরাঞ্চলেই জারুল ফুলের গাছ বেশি দেখা যায়। তবে প্রায় গ্রামেই এক-দুইটা জারুলগাছের দেখা মেলে।

উদ্ভিদ গবেষকদের সূত্রে জানা গেছে, জারুল এ দেশের একটি অন্তরঙ্গ গাছ। জারুলের আদি নিবাস বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশের জলাভূমি অঞ্চল। জলাভূমির আশপাশের জনপদেই এ গাছকে বেশি দেখা যায়। এটি একটি পানিপছন্দ প্রজাতি। গাছের উচ্চতা ১০ থেকে ২৫ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। গ্রীষ্মের শুরুতে জারুলের ফুল ফুটতে থাকে। শরৎ পর্যন্ত ফুল ফুটতে দেখা যায়। তবে এটি যেমন জলাভূমিতে বেড়ে ওঠে, তেমনি এ গাছ শুকনো এলাকায়ও নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। অনেক শহর ও পাহাড়ি এলাকায়ও জারুল দেখা যায়। গ্রীষ্মে কচি পাতাভরা গাছের ডালে ডালে থোকা থোকা বেগুনি রঙের নজরকাড়া ফুল ফোটে। ফল ডিম্বাকার ও শক্ত।

জারুল ফুলের ইংরেজি নাম ‘প্রাইড অব ইন্ডিয়া’। জারুলের বৈজ্ঞানিক নাম ‘Lagerstromia sepciosa’। জারুলের কাঠ লালচে রঙের এবং অত্যন্ত শক্ত ও মূল্যবান। জারুল কাঠ দিয়ে ঘরের কড়ি-বরগা, লাঙল, নৌকা ও আসবাব তৈরি করেন লোকজন। জ্বর, অনিদ্রা, কাশিতে জারুলের ভেষজ গুণও আছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন