স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানিয়েছেন, ইরশাদ হালদার বাহিরচর দৌলতদিয়া পদ্মা নদীর মোহনায় রাতে জাল ফেলার পর আজ ভোরে বুঝতে পারেন বড় কোনো মাছ ধরা পড়েছে। জাল টেনে নৌকায় তুলতেই দেখেন বড় একটি পাঙাশ মাছ। এর কিছুক্ষণ পর ওই এলাকায় নদীতে জেলে সাঈদ শেখের ফেলা জালে ধরা পড়ে বোয়াল মাছটি।

পরে জেলে ইরশাদ হালদার পাঙাশ মাছটি দৌলতদিয়া ফেরিঘাট-সংলগ্ন বাজারে দুলাল মণ্ডলের আড়তঘরে এবং সাঈদ শেখের বোয়াল মাছটি রওশন মোল্লার আড়তঘরে নিয়ে যান। এ সময় নিলামে তোলা হলে ফেরিঘাট এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা মাছ দুটি কিনে নেন।

দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ফেরিঘাট এলাকার চাঁদনি-আরিফা মৎস্য ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী মো. চান্দু মোল্লা বলেন, নিলামে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে পাঙাশ মাছটি ১ হাজার ৩৫০ টাকা কেজিদরে ২৫ হাজার ৬৫০ টাকায় এবং বোয়াল মাছটি ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজিদরে মোট ২১ হাজার ৬০০ টাকায় কেনেন।

default-image

চান্দু মোল্লা আরও বলেন, কেনার পর মাছ দুটি দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুনের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। দুপুরে পাঙাশ মাছটি ঢাকার এক পরিচিত ব্যবসায়ীর কাছে ১ হাজার ৪৫০ টাকা কেজিদরে ২৭ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করছেন। তবে বোয়াল মাছটি এখনো পন্টুনে বাঁধা রয়েছে। কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে লাভ পেলেই বিক্রি করবেন।

নদী ভরাট হওয়ায় খাবারের জন্য বড় বড় মাছ মাঝনদী দিয়ে উজানের দিকে ছুটতে থাকে এবং তখন জেলেদের জালে ধরা পড়ে বলে জানিয়েছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. টিপু সুলতান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, নদীতে পানি বাড়তে থাকায় বড় মাছ পাওয়া যাচ্ছে। এই বর্ষায় মাঝেমধ্যে বড় বড় পাঙাশ, বোয়াল, রুই, বাগাড়-জাতীয় মাছ মাছ ধরা পড়বে।

এর আগে রোববার সকালে রাজবাড়ী সদর উপজেলার গুদারবাজার এলাকায় পদ্মা নদীতে দৌলতদিয়া যদুফকির পাড়ার জেলে মোনতাজ শেখের জালে ২২ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের একটি বড় পাঙাশ মাছ ধরা পড়ে।

মাছটি দৌলতদিয়া ঘাট মাছবাজারে আবদুল হালিম সরদারের আড়তঘরে নিলামে তোলা হয়। এরপর সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ফেরিঘাট এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী মাসুদ মোল্লা ও লাল চাঁদ খান ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজিদরে ২৯ হাজার ২৫০ টাকায় মাছটি কিনে নেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন