চরখিদিরপুর গ্রামের তিন দিকেই ভারতীয় সীমান্ত। আর একদিকে পদ্মা নদী। পদ্মায় মাছ শিকার ও গবাদি পশুপালনই গ্রামের মানুষে জীবিকার প্রধান উৎস। চরখিদিরপুরের সঙ্গে খানপুর ও তারানগর নামে আরও দুটি গ্রাম ছিল। এখন খিদিরপুরের পশ্চিমপাড়ার সামান্য একটু অংশ ভারতীয় সীমানার সঙ্গে সবুজ রেখার মতো দেখা যায়। এটি ছিল পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড। এই ভূখণ্ডে প্রায় ৬০০ পরিবারের বাস ছিল। দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এখন একটি একেবারে সীমান্তের গা ঘেঁষে করা হয়েছে। পাশেই রয়েছে বিজিবি ক্যাম্প। এখানেই ছিল প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত আলোর পাঠশালা। ভাঙনের মুখ থেকে কয়েক মাস আগে তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একটি মসজিদ কাম মাদ্রাসাও ছিল, এখন তা ভেঙে ইট খুলে নেওয়া হচ্ছে। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও যেকোনো সময় সরিয়ে নিতে হতে পারে।

ভাঙনে ভারতীয় সীমান্তবর্তী গ্রামটির অস্তিত্ব মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়া সময়ের ব্যাপার। পরিবারগুলো নতুন ঘর করার জায়গার খোঁজে দিশেহারা।

গতকাল শুক্রবার এই গ্রামে গিয়ে বাড়িঘর ভাঙা আর গাছ কাটা নিয়ে মানুষের ব্যস্ততা দেখা যায়। কাজ থামিয়ে মুরশেদা বেগম (৪০) উঠে এলেন কথা বলার জন্য। বললেন, ‘আরেকটা বছর এই ভিটায় থাইকতে চাহিছুনু। আর পারছি না। এখন ঘরবাড়ি ভাইঙে নিয়ে বাসে আছি।’ পাশ থেকে সাগরা বেগম (৫০) এর সঙ্গে যোগ করলেন, ‘ভোরের আজানের সময় উঠ্যাছি। মাটি খুঁইজে বেড়াচ্ছি। কোথাও এতটুকুন মাটি পাইছিনাখো। সীমান্তের কাছে বিএসএফ ঘর তুলতে দিবে না।’

প্রায় ১১ বছর আগে গ্রামের লোকজন চাঁদা তুলে ও অনুদানের টাকায় একটি মসজিদ কাম মাদ্রাসা তৈরি করেছিলেন। পরিচালনা কমিটির সদস্য মাজেদুর রহমান বললেন, এখন এই মাদ্রাসা করার মতো এ গ্রামে আর কোনো জায়গা নেই। অনেক কষ্ট করে শহর থেকে নৌকায় করে ইট এনে এই প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয়েছিল। ঘর ভেঙে ইটগুলো এক জায়গায় রাখছেন। পরে অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নেবেন।

হরিয়ান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মফিদুল ইসলাম বলেন, পদ্মা নদীতে একটা নতুন চর জেগেছে। সরকারি সিদ্ধান্ত হলে সেখানে এই পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করা যেতে পারে। আর বাড়ি ভাঙা পরিবারগুলোর তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য পরিষদ থেকে সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করবেন।