যাত্রীদের ভাষ্য, অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে ওঠা-নামা করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। লঞ্চগুলো ঘাটের মাটিতে সরাসরি ভিড়তে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তীরের মাটি। এতে ভাঙনকবলিত মনপুরা আরও ভাঙছে। শীতে তেমন কষ্ট হয়নি। দিন দিন ভোগান্তি বাড়ছে। সামনে তো ঈদ ও ঝড়-বৃষ্টির মৌসুম। এ নৌপথে নিয়মিত যাতায়াতকারী প্রভাষক আবদুল হালিম বলেন, মালামাল-আসবাব নিয়ে অনেক সময় কাদামাটিতে আছড়ে পড়তে হচ্ছে। রোদে পুড়তে ও বৃষ্টিতে ভিজতে হচ্ছে।

ঘাটের ইজারাদার আবদুস সালাম বলেন, রামনেওয়াজ লঞ্চঘাটটি ভাঙনের কারণে বারবার স্থানান্তরিত হয়েছে। অথচ এটাই উপজেলার প্রধান লঞ্চঘাট। সর্বশেষ কয়েক বছর আগে ইউনিয়নের সীতাকুণ্ড মৌজার কাউয়ারটেক (চৌমোহনীর পূর্ব পাশে) নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে ভাঙনের তীব্রতা দেখা দেওয়ায় আবার রামনেওয়াজ মাছঘাটের সামনে স্থাপনের জন্য পন্টুন সরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু নানা জটিলতায় তা এখনো চালু হয়নি। এর মধ্যে তিন-চার মাস আগে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) কাউয়ারটেক ঘাটের ছোট পুরোনো পন্টুনটি অন্যত্র নিয়ে গেছে। রামনেওয়াজ মাছঘাটের মাথায় নতুন বড় পন্টুন স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। লঞ্চ ভিড়ছে কাউয়ার টেকে, যেখানে পন্টুন নেই।

ইজারাদার ও স্থানীয় যাত্রীরা জানান, রামনেওয়াজ মাছঘাটের সামনের মেঘনা নদীতে যেখানে বড় পন্টুন স্থাপন করা হয়েছে, সেখানে সংযোগ সড়ক নেই। পাশেই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পর্যন্ত সরকারি সড়ক। বাঁধের বাইরে (যেখানে সড়ক শেষ) পন্টুন পর্যন্ত প্রায় ৫০ ফুট লম্বা জমিটুকু ব্যক্তিমালিকানাধীন। তীর সংরক্ষণে ব্লক পড়ায় এখন জমির কদর বেড়েছে। এ কারণে সড়ক নির্মাণ করার কথা শুনে জমির মালিকেরা নানা রকম দাবি-আবদার উত্থাপন করছেন, এ কারণে সংযোগ সড়ক নির্মাণে যাচ্ছে না। পন্টুনটি এখন আগের স্থান কাউয়ারটেকে সরিয়ে নিতেও বড় জাহাজ দরকার।

বিআইডব্লিউটিএর বরিশালের যুগ্ম পরিচালক এস এম আজগর আলী বলেন, মনপুরা উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও ঘাট ইজারাদার সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নিল, রামনেওয়াজ মাছঘাট বরাবর পন্টুন স্থাপন হবে। বিআইডব্লিউটিএ সেখানে বড় পন্টুন স্থাপন করেছে। কয়েক মাস চলে গেলেও তারা পন্টুনের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে ঘাটটি চালু করতে পারেনি।

ইউএনও শামীম মিঞা বলেন, তিনি ও উপজেলা চেয়ারম্যান শেলিনা আক্তার সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সিদ্ধান্ত হয়েছে, নতুন বড় পন্টুন যেখানে স্থাপন করা হয়েছে, সেখানেই থাকবে। জমির মালিকের সঙ্গে কথা হয়েছে। জমির মালিক প্রাথমিকভাবে শুধু সংযোগ সড়কের জন্য জমি দিতে রাজি হয়েছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন