বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী একটি পণ্যবাহী ট্রাকের চালক মো. ইব্রাহিম শেখ বলেন, ‘অতিরিক্ত কাদার কারণে ফেরি থেকে নামার পর সড়কে উঠতে পারছি না। চাকা বারবার স্লিপ কেটে যাচ্ছে। জোরে চালাতে গেলে যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আধা ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছি, ওপরে উঠতে পারছি না।’

default-image

ট্রাকের সহকারী বাইরে থেকে ইটের আধলা ও কাঠের গুঁড়ি এনে চাকার নিচে দিয়ে ওপরে ওঠানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু সেই চেষ্টা বারবার ব্যর্থ হচ্ছিল। এ সময় ৫ নম্বর ঘাটে ফেরিতে যানবাহন ওঠানামা অনেকক্ষণ বন্ধ ছিল। অবশেষে প্রায় এক ঘণ্টা পর অন্যদের সহযোগিতায় গাড়িটি ওপরে ওঠানো সম্ভব হয়।

কুষ্টিয়া থেকে আসা ঢাকাগামী একটি পরিবহনের চালক আলাল হোসেন বলেন, ‘প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে ফেরিঘাটের সংযোগ সড়কের কাদার ভেতর লাইন ধরে আছি। কাদাপানির কারণে চাকা ঘুরতে থাকে। কোনোভাবে সরতে পারছিলাম না। অনেক কষ্ট করে উঠতে হচ্ছে। অতি দ্রুত কাদা অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

দুপুর ১২টার দিকে তিন শ্রমিক এসে কেউ কোদাল দিয়ে কাদা টেনে অপসারণের কাজ করছিলেন। আবার কেউ পানি দিয়ে ধোয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় ঘাট দিয়ে যাতায়াতকালে সাধারণ যাত্রীরা অনেক বিড়ম্বনার শিকার হয়। অনেকে বিরক্তি প্রকাশ করে বলতে থাকে, ঘাটের সমস্যা যেন কোনো দিনই শেষ হবে না।

default-image

৫ নম্বর ঘাটে কর্তব্যরত বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর রাজু হাওলাদার বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ায় তিন দিন ধরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ায় প্রতিটি ঘাট কাদাপানিতে অতিরিক্ত পিচ্ছিল হয়ে গেছে। যে কারণে ফেরিতে গাড়ি দ্রুত ওঠানামা করতে পারছে না। আমরা কাদা অপসারণের জন্য কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বৃষ্টি না থাকলে আর সমস্যা হবে না বলে আশা করা যাচ্ছে।’

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জিল্লুর রহমান বলেন, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া উভয় ঘাটে অতিরিক্ত কাদায় পিচ্ছিল হওয়ায় গাড়ি ওঠানামা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ফেরি থেকে নামার পর ওই সব গাড়ি সহজে ওপরে সড়কে উঠতে পারছে না। এতে ফেরি লোড-আনলোডে আগের থেকে কয়েক গুণ বেশি সময় লাগছে। তিনি বলেন, বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ছোট-বড় ১৬টি ফেরি থাকলেও সোমবার সকালে যান্ত্রিক ত্রুটিতে রো রো ফেরি শাহজালাল বসে আছে। বর্তমানে সাতটি বড়, ছয়টি ছোট ও দুটি মাঝারি আকারের ফেরি চলাচল করছে। এ কারণে পাটুরিয়ায় প্রায় ৪০০ পণ্যবাহী গাড়িসহ অর্ধশত যাত্রীবাহী বাস রয়েছে। দৌলতদিয়া প্রান্তেও কয়েক শ গাড়ি অপেক্ষায় রয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন