পরিবারের সবাইকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১

প্রতীকী ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় পরিবারের সবাইকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করার পর দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৬) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাতে শাহাদাত হোসেন (৩৬) নামের এক যুবককে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন। এর আগেই অবশ্য ছাত্রীর পরিবারের লোকজন শাহাদাতকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। আজ বুধবার দুপুরে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেন পাশের বিজয়নগর উপজেলার মুকন্দপুরের সেজামোড়া গ্রামের বাসিন্দা।  আগে একাধিকবার ধর্ষণের পর গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে ওই স্কুলছাত্রীর কক্ষে ঢুকলে তাঁকে হাতেনাতে আটক করে ছাত্রীর পরিবার। পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে তাঁকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এরপর ওই রাতেই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।

স্কুলছাত্রীর পরিবার, মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আখাউড়া উপজেলার একটি গ্রামে ওই স্কুলছাত্রীর বসতঘরের পাশেই তার এক আত্মীয়ের বসতঘর। গত বছরের প্রথম দিকে ওই আত্মীয়ের বসতঘরের সংস্কারকাজ শুরু হয়। সে সময় ওই আত্মীয়ের কাজে সহায়তার জন্য শাহাদাত এসে থাকতে শুরু করেন। আত্মীয় হওয়ায় শাহাদাতের থাকার জন্য তাঁকে নিজের ঘরে আশ্রয় দেন ওই স্কুলছাত্রীর মা। একপর্যায়ে ওই স্কুলছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন তিনি। ছাত্রী তাতে রাজি না হওয়ায় তাকে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করেন শাহাদাত। একপর্যায়ে ওই ছাত্রীর প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তিনি। এরপর আঁটেন ধর্ষণের পরিকল্পনা।

প্রথমবার ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে গত বছরের ১ এপ্রিল রাতে। বাড়িতে থাকার সুযোগে স্কুলছাত্রীর পরিবারের সবাইকে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করেন শাহাদাত। ওই দিন রাত দুইটার দিকে স্কুলছাত্রীর কক্ষে ঢোকেন তিনি। সে সময় অচেতন অবস্থাতেই তাকে ধর্ষণ করেন শাহাদাত।

প্রথমবার ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে গত বছরের ১ এপ্রিল রাতে। বাড়িতে থাকার সুযোগে স্কুলছাত্রীর পরিবারের সবাইকে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করেন শাহাদাত। ওই দিন রাত দুইটার দিকে স্কুলছাত্রীর কক্ষে ঢোকেন তিনি। সে সময় অচেতন অবস্থাতেই তাকে ধর্ষণ করেন শাহাদাত। ভোরে জ্ঞান ফিরলে অসুস্থ বোধ করে সে। ঘটনা বুঝতে পেরে মানসম্মানের ভয়ে বিষয়টি চেপে যায় ছাত্রীটি। পরিবারের কাউকে না জানানোর সুযোগে ভয়ভীতি দেখিয়ে পরে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করেন শাহাদাত। পরে একপর্যায়ে ওই ছাত্রী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরিবারের লোকের জেরায় তখন ঘটনা খুলে বলে সে।

বুধবার দুপুরে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ওই স্কুলছাত্রীকে পাঠানো হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে।
রসুল আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), আখাউড়া থানা

এরই মধ্যে গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে কক্ষে ঢুকে স্কুলছাত্রীকে আবার ধর্ষণের চেষ্টা করেন শাহাদাত। এ সময় স্কুলছাত্রী চিৎকার শুরু করলে পরিবার ও আশপাশের লোকজন তার কক্ষে ঢুকে শাহাদাতকে হাতেনাতে আটক করেন। পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে ছাত্রীর পরিবারের লোকজন পুলিশকে ঘটনাটি জানান। ওই দিন বিকেলেই শাহাদাতকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন তাঁরা। এরপর রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্কুলছাত্রীর মায়ের দায়ের করা অভিযোগ আখাউড়া থানায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়।

ওই স্কুলছাত্রীর মা প্রথম আলোকে বলেন, ‘খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বখাটে শাহাদাত আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার মেয়েকে একাধিকবার ধর্ষণ করে সে। সোমবার গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটাতে আসলে তাকে আটক করা হয়।’

আখাউড়া থানায় আটক অবস্থায় শাহাদাত গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দাবি করেন, ‘আমি ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করিনি। এই অভিযোগ মিথ্যা।’

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রসুল আহমেদ বলেন, স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। বুধবার দুপুরে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ওই স্কুলছাত্রীকে পাঠানো হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে।