বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ট্যুরিস্ট পুলিশ সিলেটের জাফলং সাবজোনের পরিদর্শক মো. রতন শেখ প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের ছুটি ছাড়াই সাধারণত শুক্র ও শনিবার ছুটির দিনে ৩০ থেকে ৪০ হাজার পর্যটক জাফলংয়ে আসেন। এ ছাড়া পর্যটন মৌসুমে সাধারণ দিনেও আড়াই থেকে তিন হাজার পর্যটক এখানে আসেন। গতকাল বেলা দুইটার দিকে তিনি বলেন, শুক্র ও শনিবার পর্যটকদের উপস্থিতি কম ছিল। জাফলংয়ে বর্তমানে পাঁচ থেকে সাত হাজার পর্যটক অবস্থান করছেন। যা ঈদের ছুটিতে অত্যন্ত কম।

পর্যটকের উপস্থিতি কমে যাওয়ার পেছনে হামলার প্রভাব সম্পর্কে ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক রতন শেখ বলেন, ঈদের ছুটি শেষ পর্যায়ে সেটিও অন্যতম কারণ হতে পারে। ট্যুরিস্ট পুলিশ পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আছে এবং সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

জাফলংয়ের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্র ও শনিবার যে পর্যটক এখানে এসেছেন, তা অন্যান্য ছুটির দিনের তুলনায় কম। ঈদের ছুটিতে যে পরিমাণ পর্যটক উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল, তেমনটি দেখা যায়নি। বুধ ও বৃহস্পতিবার পর্যটকদের উপচে পড়া ভীড় দেখা গিয়েছিল। সে তুলনায় শুক্র ও শনিবার পর্যটকের সংখ্যা কয়েক ভাগ কমেছে।

জাফলং বিজিবি ক্যাম্প এলাকার ব্যবসায়ী আরিফুজ্জামান আবির বলেন, বৃহস্পতিবারের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার রেশ ধরেই পর্যটকদের উপস্থিতিতে ভাটা পড়েছে। তবে ওই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় অনেকের মনে জাফলং সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে।

জাফলংয়ে পরিবারের তিনজনকে নিয়ে বেড়াতে এসেছেন কুমিল্লার বাসিন্দা সাজেদুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, জাফলংয়ে আসার পর কোনো প্রবেশ ফি দিতে হয়নি। এ ছাড়া হয়রানির শিকারও হতে হয়নি। আসার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও দেখে কিছুটা বিচলিত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু জাফলংয়ে এসে পরিবেশ দেখে সেটি ভুলে গেছেন।

বৃহস্পতিবার পর্যটকদের ওপর হামলার পর শুক্রবার থেকে এক সপ্তাহ পর্যটকদের প্রবেশ ফি আদায় বন্ধ করার ঘোষণা দেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান। গতকালও পর্যটনকেন্দ্রে প্রবেশের ফি আদায়ের চারটি বুথ বন্ধ ছিল।

সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জেলা গোয়েন্দা শাখা) মো. লুৎফর রহমান বলেন, মানুষের কর্মস্থলে ফেরা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ বিশেষ অভিযানেও তৎপর রয়েছে। জেলার বিভিন্ন ট্রাফিক চেকপোস্টে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এ জন্য পোশাক পরিহিত পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকেও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিলুর রহমান গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, পর্যটক গণনা করার মতো এখন তেমন ব্যবস্থা নেই। এ জন্য পর্যটক কমেছে কি না, সেটি বলা যাচ্ছে না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন