মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নওশাদ আহমদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, আজ অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার ধার্য তারিখ ছিল। আদালতে এ সময় মামলার অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত পাঁচ আসামি উপস্থিত ছিলেন। আদালতের বিচারক শুনানিতে একমাত্র পলাতক আসামি আবদুল্লাহ আল নোমানের মালামাল ক্রোক–সংক্রান্ত পরোয়ানা তামিলের প্রতিবেদন আদালতের জমা না দেওয়ায় পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন। তবে পরবর্তী নির্ধারিত তারিখ এখনো তাঁদের জানানো হয়নি।

রায়হানের মায়ের অভিযোগের প্রসঙ্গে নওশাদ আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘সাক্ষী চুলাই লাল মারা গেলেও মামলার বিচারকার্যে কোনো সমস্যা হবে না বলে আশা করছি। রায়হানকে নির্যাতনের মাধ্যমে মেরে ফেলা হয়েছে, সেটি আদালতে আমরা প্রমাণ করতে পারব বলে আশাবাদী। অন্য কোনো সাক্ষীকে হুমকি দিয়ে থাকার বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি এ রকম হয়ে থাকে, তাহলে বাদীপক্ষ আদালতে লিখিতভাবে জানাতে পারবে।’

গত বছরের ১০ অক্টোবর মধ্যরাতে সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে রায়হান আহমদকে নির্যাতন করা হয়। ১১ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে রায়হানের স্ত্রীর করা মামলার পর মহানগর পুলিশের একটি অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত করে ফাঁড়িতে নিয়ে রায়হানকে নির্যাতনের সত্যতা পায়।

ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চারজনকে ১২ অক্টোবর সাময়িক বরখাস্ত এবং তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর পুলিশি হেফাজত থেকে কনস্টেবল হারুনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তবে প্রধান অভিযুক্ত আকবর ১৩ অক্টোবর পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে ভারতে চলে যান। গত বছরের ৯ নভেম্বর সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পিপির দপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৫ মে আলোচিত এই মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয় মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই।

অভিযোগপত্রে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই (সাময়িক বরখাস্ত) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে (৩২) প্রধান অভিযুক্ত করা হয়। অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহী (৪৩), কনস্টেবল মো. হারুন অর রশিদ (৩২), টিটু চন্দ্র দাস (৩৮), ফাঁড়ির টুআইসি পদে থাকা সাময়িক বরখাস্ত এসআই মো. হাসান উদ্দিন (৩২) ও এসআই আকবরের আত্মীয় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমান (৩২)।

অভিযোগপত্রভুক্ত ছয়জন আসামির মধ্যে পাঁচ পুলিশ সদস্য কারাবন্দী। অভিযোগপত্রভুক্ত ৬ নম্বর আসামি আবদুল্লাহ আল নোমান পলাতক। চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার নথি পর্যালোচনা শেষে অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয় এবং একমাত্র পলাতক আসামি নোমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।