বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাঘা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লায়েব উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাপিয়া সুলতানা। উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগের সহকারী বনসংরক্ষক মেহেদীজ্জামান, বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা রাহাত হোসেন, বাঘা উপজেলা বন কর্মকর্তা জহুরুল হক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চারঘাট ফরেস্ট রেঞ্জার এ বি এম আবদুল্লাহ প্রমুখ।

টাকা পেলাম কি না, তার চেয়ে বড় কথা, এটা একটা ইতিহাস হয়ে রইল। সরকারের এ উদ্যোগের কারণে স্থানীয় প্রশাসন, সাংবাদিক, পাখিপ্রেমীরা সংযুক্ত হয়েছেন। সবাইকে আমি অভিনন্দন জানাই।
শফিকুল ইসলাম, আমবাগানের মালিক, বাঘা, রাজশাহী

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১ নভেম্বর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে বন অধিদপ্তরকে খোর্দ্দ বাউসা গ্রামের আমবাগানে শামুকখোল পাখির বাসার জন্য আমচাষিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাগানমালিকদের একজন সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এটা সরকারের ভালো কাজের একটা অপূর্ব উপমা। টাকা পেলাম কি না, তার চেয়ে বড় কথা, এটা একটা ইতিহাস হয়ে রইল। সরকারের এ উদ্যোগের কারণে স্থানীয় প্রশাসন, সাংবাদিক, পাখিপ্রেমীরা সংযুক্ত হয়েছেন। সবাইকে আমি অভিনন্দন জানাই।’

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লায়েব উদ্দিন বলেন, গণমাধ্যমে লেখালেখির কারণে আজ দেশে পাখির বাসার জন্য ভাড়া দেওয়ার একটা ব্যবস্থা হলো। এটি একটি বিরল ঘটনা। তিনি এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি স্থানীয় লোকজনকে পাখিদের সুরক্ষার বিষয়ে উৎসাহিত করেছেন।

বেশ কয়েক বছর ধরে বর্ষার শেষে শামুকখোল পাখিরা বাচ্চা ফোটানোর আগে খোর্দ্দ বাউসার এ আমবাগানে বাসা বাঁধে। ২০১৯ সালের অক্টোবরের শেষে পাখিরা বাচ্চা ফুটিয়েছিল। কিন্তু তখনো উড়তে শেখেনি বাচ্চাগুলো। এ অবস্থায় আমবাগানের ইজারাদার বাগানের পরিচর্যা করতে চান। তিনি বাসা ভেঙে আমগাছ খালি করতে চান। একটি গাছের কিছু বাসা ভেঙেও দেন। স্থানীয় পাখিপ্রেমী কিছু মানুষ অন্তত যত দিন বাচ্চারা উড়তে না শেখে, তত দিন পাখির বাসা না ভাঙার জন্য অনুরোধ করেন। এ অবস্থায় ইজারাদার ১৫ দিন সময় বেঁধে দেন। ১৫ দিনের মধ্যে পাখিরা বাসা না ছাড়লে সেগুলো ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেন। ২৯ অক্টোবর প্রথম আলোর অনলাইনে ‘পাখিদের বাসা ছাড়তে সময় দেওয়া হলো ১৫ দিন’ ও পরের দিন ছাপা কাগজে ‘পাখিদের উচ্ছেদের ১৫ দিন সময় বাগানমালিকের’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

বিষয়টি আদালতের নজরে এনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার আরজি জানান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রজ্ঞা পারমিতা রায়। আদালত স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ এক আদেশ দেন। তাতে কেন ওই এলাকাকে পাখির অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। এলাকাটি অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হলে বাগানমালিক ও বাগানের ইজারাদারের ক্ষতির সম্ভাব্য পরিমাণ নিরূপণ করে ৪০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসন থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা পাখির বাসার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৮টি আমগাছ চিহ্নিত করেন। তাঁরা ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে। তাঁদের প্রস্তাবনার মধ্যে ছিল পাখি থাকা সাপেক্ষে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে, পাখিরা সব সময় একই জায়গায় বাসা বাঁধে না। কয়েক বছর পর তারা নতুন জায়গায় চলে যায়। প্রস্তাবনায় বলা হয়, পাখির বিষ্ঠায় স্থানীয় মানুষের কোনো ক্ষতি না হয়, এ ব্যাপারে নজর রাখতে হবে। পাখির অসুস্থতার ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিতে হবে। সর্বোপরি পাখি সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় লোকজনের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করতে হবে। তাঁদের উৎসাহিত করার জন্য সেমিনার–সিম্পোজিয়াম করতে হবে এবং উপহারসামগ্রী দিতে হবে।

রাজশাহী বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা রাহাত হোসেন বলেন, ‘পাখি মরা মাছ ও পোকামাকড় খেয়ে আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। এ জন্য পাখি সুরক্ষার জন্য আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’ ২০২০ সালের জন্য পাখির বাসার ভাড়া কবে দেওয়া হবে, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিবছর জরিপ করে দেখা হবে, বাগানের কার গাছে পাখি বাসা বাঁধছে। ২০২০ সালের জরিপ ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। এর ভিত্তিতে টাকা দেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন