গবেষণায় দেখা গেছে, মে থেকে আগস্ট এবং ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে নদীতে প্রজননক্ষম পরিপক্ব স্ত্রী মাছ পাওয়া যায় এবং জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে জলাশয়ে পিয়ালির পোনার উপস্থিতি মেলে। পিয়ালি মাছের ডিম ধারণক্ষমতা আকার ভেদে দেড় হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার।

গবেষক দলের প্রধান ডেভিড রিন্টু দাস জানান, পিয়ালি মাছ দ্রুত বর্ধনশীল ও খেতে খুবই সুস্বাদু। এই মাছ আমিষ, চর্বি, ক্যালসিয়াম ও লৌহসমৃদ্ধ। প্রতি ১০০ গ্রাম পিয়ালি মাছে মেথিয়োনিন ৭৫০ মিলিগ্রাম, সিস্টিন ৪২০ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৪৩০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৬৭০ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ১৫০ মিলিগ্রাম, জিংক ১২.৮ মিলিগ্রাম, আয়রন ২৫ মিলিগ্রাম, ম্যাঙ্গানিজ ৮.২১ মিলিগ্রাম এবং ১.৪০ শতাংশ কপার রয়েছে, যা অন্যান্য অনেক দেশীয় ছোট মাছের তুলনায় অনেক বেশি। মানবদেহে ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়ামের অভাব পূরণ, রাতকানা প্রতিরোধ, লৌহের ঘাটতি পূরণে এই মাছ অত্যন্ত কার্যকর।

পিয়ালি মাছ এলাকা ভেদে জয়া, পিয়ালি বা পিয়াসি নামে পরিচিত। গবেষক দলের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মালিহা খানম জানান, এর বৈজ্ঞানিক নাম Aspidoparia Jaya. মাছটি সাইপ্রিনিডি (Cyprinidae) পরিবারভুক্ত মিঠা পানির একটি মাছ। বাংলাদেশ (পদ্মা ও যমুনা এবং তাদের শাখা নদীতে), ভারত (আসাম, উত্তরাঞ্চল, উত্তর প্রদেশ), নেপাল, ইরান, মিয়ানমার, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও আফগানিস্তানে এই মাছের বিস্তৃতি রয়েছে।

মানবদেহে ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়ামের অভাব পূরণ, রাতকানা প্রতিরোধ, লৌহের ঘাটতি পূরণে এই মাছ অত্যন্ত কার্যকর।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট গবেষণা পরিচালনার মাধ্যমে ইতিমধ্যে পিয়ালি, বাতাসি, ঢ্যালাসহ ২৯ প্রজাতির মাছের প্রজনন ও চাষাবাদ কৌশল উদ্ভাবন করতে সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে পাবদা, গুলশা, ট্যাংরা, বাটা, ফলি, মহাশোল, খলিশা, বৈরালী, গুতুম অন্যতম।

দেশীয় বিলুপ্ত প্রজাতির সব ছোট মাছকে পর্যায়ক্রমে ভোক্তাদের পাতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান বিএফআরআইর মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদ। পিয়ালি মাছের প্রজনন সফলতা সম্পর্কে তিনি বলেন, চলতি বছর ১০টি দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন কৌশল উদ্ভাবনের লক্ষ্যে গবেষণা কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ঢেলা, বাতাসি, লইটি ট্যাংরা, পুইয়া ও পিয়ালি মাছের প্রজনন কৌশল উদ্ভাবন করা হয়েছে।