‘১৬ নম্বর ওয়ার্ডবাসী’র ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ডের প্রবীণ বাসিন্দা এম এ মতিন। তরুণ সমাজসেবী ফয়জুল হাসানের সঞ্চালনায় কর্মসূচি চলাকালে প্রধান বক্তা ছিলেন দুর্নীতি মুক্তকরণ বাংলাদেশ ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মকসুদ হোসেন।

মকসুদ হোসেন বলেন, পানির বর্ধিত বিলের সিদ্ধান্ত অমানবিক। করোনা পরিস্থিতির এই সংকটময় মুহূর্তে পানির বিল বাড়ানো মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। তাই দ্রুত এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা উচিত।

কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ক্রীড়াবিদ আবদুল কাহির, জাদুশিল্পী বেলাল উদ্দিন, তাঁতিপাড়া সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন, সংগঠক বাবর আহমদ, বিহঙ্গ তরুণ সংঘের সভাপতি লিয়াকত হোসেন, সংগঠক জাকারিয়া আহমদ, সওদাগরটুলা সমাজকল্যাণ সংস্থার সহসভাপতি আলী হোসেন, মানবাধিকার সংগঠক শাহীন আহমদ ও হারুন মিয়া, লেখক গোলাম সরওয়ার প্রমুখ।

মানববন্ধন শেষে ওয়ার্ডবাসী সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বরাবর বর্ধিত বিল প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন। মেয়রের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন সিটি করপোরেশনের সচিব ফাহিমা ইয়াসমিন।

কর্মসূচি চলাকালে বক্তারা বলেন, অস্বাভাবিক হারে পানির বিল বৃদ্ধির কারণে নগরের বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ। তাঁদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে করোনা পরিস্থিতি, অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নগরীবাসীর জীবনযাপন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। তাই বর্ধিত বিল প্রত্যাহার করে নগরবাসীর ভোগান্তি কিছুটা হলেও লাঘব করা হোক।

গত ২ সেপ্টেম্বর সিলেটের স্থানীয় একটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে পানির বিল বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সিটি করপোরেশন। গত ১ জুলাই থেকে তা কার্যকর করা হয়েছে বলে এতে জানানো হয়। প্রতি মাসে আধা ইঞ্চি ব্যাসের লাইনের ক্ষেত্রে আবাসিক গ্রাহকদের ২০০ টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা এবং বাণিজ্যিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও সরকারি গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ৪০০ টাকার পরিবর্তে ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পৌনে এক ইঞ্চি ব্যাসের লাইনের ক্ষেত্রে প্রতি মাসে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ৪০০ টাকার পরিবর্তে ৮০০ টাকা এবং বাণিজ্যিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও সরকারি গ্রাহকদের জন্য ৭০০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি মাসে এক ইঞ্চি ব্যাসের লাইনের ক্ষেত্রে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য এক হাজার টাকার পরিবর্তে দেড় হাজার টাকা, বাণিজ্যিক গ্রাহকদের দেড় হাজার টাকার পরিবর্তে ২ হাজার ২০০ টাকা, প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের দুই হাজার টাকার পরিবর্তে তিন হাজার টাকা এবং সরকারি গ্রাহকদের এক হাজার টাকার পরিবর্তে দেড় হাজার টাকা নির্ধারণ হয়েছে।