সেনাবাহিনীর একটি দল সকাল থেকে শহরের শহীদ আবুল হোসেন মিলনায়তন প্রাঙ্গণে মানুষদের চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দিচ্ছে। অনেক নারী-পুরুষ সেখানে সেবা নিচ্ছেন। চিকিৎসা দলে থাকা ক্যাপ্টেন কাজী তানজিদুর রহমান জানান, মানুষজন পানিবাহিত রোগ নিয়েই বেশি আসছেন। এ চাড়া চর্মরোগও আছে। তাঁরা সবাইকে প্রয়োজনীয় সেবা ও ওষুধ দিচ্ছেন।

সদর উপজেলার মইনপুর গ্রামের বাসিন্দা আরজদ আলী বলেন, ছেলের পাতলা পায়খানা হচ্ছে। পেটে ব্যথা। তাই নিয়ে এসেছেন এখানে। নবীনগর এলাকার সুখচান বিবি (৫৫) বলেন, সকাল থেকে বমি হচ্ছে। খবর পেয়ে এই স্কুলে ওষুধ নিতে এসেছেন। মিনারা বেগম (৪০) নামের আরেক নারী বলেন, দুই দিন ধরে জ্বর, মাথাব্যথা। পানিতে থাকতে থাকতে তাঁর মেয়ের পায়ে ঘা হয়ে গেছে।

শহরের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর পরিবেশও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে। অনেক স্থানে গাদাগাদি করে আছেন মানুষ। রয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব।

সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে এখন রোগীর চেয়ে আশ্রয় নেওয়া বন্যার্ত  মানুষই বেশি। সবখানেই মানুষে ঠাসা। চারদিকে দুর্গন্ধ, ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে কিছু মানুষ পানিবাহিত রোগ নিয়ে আসছেন। তবে সেটা এখনো কম। পানি যেহেতু নামছে, ফলে পানিবাহিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়বে। তাই জরুরি হলো বিশুদ্ধ পানি পান করা। এটা নিশ্চিত করা গেলে রোগবালাই কম হবে।

সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন মো. আহম্মদ হোসেন বলেন, জেলার সদর হাসপাতাল, শাল্লা ও ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়া আর সব হাসপাতালই প্লাবিত হয়েছিল। তবে সেবা কার্যক্রম কোথাও বন্ধ হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মীরা কাজ করছেন। সরকারি-বেসরকারি পর্যায় থেকে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে। যেখানে ট্যাবলেট পাওয়া যাবে না, সেখানে পানি ফুটিয়ে পান করতে হবে। বাড়িঘর থেকে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে ভেতর-বাহির সব জায়গা ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। তাহলেই রোগবালাই কম হবে।’

গত বৃহস্পতিবার থেকে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেওয়ার পর রোববার পর্যন্ত সুনামগঞ্জ দেশের অন্যান্য অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। মুঠোফোনের নেটওয়ার্ক এ সময়কালে ছিল বন্ধ। চার দিন সুনামগঞ্জ ছিল বিদ্যুৎহীন। দাঁড়ানোর মাটি ছিল না কোথাও। শহরের রাস্তাঘাটে তিন ফুট থেকে ছয় ফুট পানি ছিল। এতে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে। মানুষের ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়। গত তিন দিন বৃষ্টি কম হওয়ায় মানুষের বাড়িঘর, রাস্তাঘাট থেকে পানি কমছে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। আশা করি, আরও হবে। ত্রাণের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত ত্রাণ আছে। সরকারের পাশাপাশি নানা বেসরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগেও ত্রাণ বিতরণ হচ্ছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন