কুষ্টিয়া জেলার মানচিত্র

চার বছর পর কুষ্টিয়ায় গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের ৩ নম্বর পাম্প চালু হয়েছে। দেশি প্রকৌশলীরা স্বল্প খরচে পাম্পটি সচল করেছেন। এটি চালু হওয়ায় আগামী রবি মৌসুমে চার জেলার কয়েক লাখ কৃষক সুফল পাবেন।

জিকে সেচ প্রকল্পের অধীনে রয়েছে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরার ১৩টি উপজেলা। ২০০৫ সালে স্থাপিত তিনটি পাম্প দিয়ে বছরের ১০ মাস (১৫ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত) ২৪ ঘণ্টা পানি উত্তোলন করা হয়। বাকি দুই মাস রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হয়। ৪ জেলায় ১৯৩ কিলোমিটার প্রধান খাল, ৪৬৭ কিলোমিটার শাখাখাল ও ৯৯৫ কিলোমিটার প্রশাখা খালে যায়। জিকে সেচ প্রকল্পের প্রধান এবং শাখাখালগুলোতে পানি থাকলে সেচসুবিধাসহ আশপাশের টিউবওয়েল ও পুকুরে পানি স্বাভাবিক থাকে।

২০১৭ সালের ২১ এপ্রিল বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে ৩ নম্বর পাম্পটি অকেজো হয়ে যায়। গত চার বছর দুটি পাম্প দিয়েই সেচকাজ চলেছে। অকেজো হয়ে যাওয়া ৩৭ হাজার হর্স পাওয়ার ক্ষমতার পাম্পটি মেরামতের জন্য জাপান থেকে ইবারা কোম্পানির (কোম্পানি পাম্প তিনটি স্থাপন করেছিল) একটি প্রতিনিধিদল আসে। তারা মেরামতের জন্য ১৭ কোটি টাকার প্রস্তাব দেয়।

এর পাশাপাশি শিল্প মন্ত্রণালয়ের সরকারি প্রতিষ্ঠান বিটাকের কাছ থেকেও প্রস্তাব পায় পানি উন্নয়ন বোর্ড। ২০২০ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি বিটাকের সঙ্গে চুক্তি হয়। বিটাক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অটোকন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে মেরামতের জন্য ৩ কোটি ৭১ লাখ টাকায় চুক্তি সম্পাদন করে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশলীরা গত শুক্রবার ৩ নম্বর পাম্পটি সচল করেন।

অটোকন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী আজাদ বলেন, দেশি প্রকৌশলীরা দিনরাত কাজ করে পাম্পটি চালু করতে সক্ষম হয়েছেন। সরকারের সহযোগিতা পেলে এ রকম কাজ আরও করতে পারবেন।

ভেড়ামারায় গঙ্গা-কপোতাক্ষ প্রধান পাম্প হাউসের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, পাম্পটি চালু হওয়ায় চার জেলার কৃষকেরা আগামী ১৫ জানুয়ারি থেকে ১০ মাস নিরবচ্ছিন্ন সেচসুবিধা পাবেন। এতে ফসল ভালো হবে।

মিজানুর রহমান আরও বলেন, বিটাকসহ মূল সাপোর্ট ছিল অটোকন ইঞ্জিনিয়ারিং। এই দুটি প্রতিষ্ঠান ভালো কাজ করায় পাম্পটি চালু হয়েছে। এটা দেশের জন্য ভালো।