বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ওই যৌথ সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ। মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইনের সঞ্চালনে সভায় জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনের সাংসদ হাবিবুর রহমানসহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা থেকে জানানো হয়, আজ সন্ধ্যায় আবুল মাল আবদুল মুহিতের মরদেহ সিলেট নগরের বাসভবনে নিয়ে আসা হবে। সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কাল দুপুর ১২টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত নগরের চৌহাট্টা এলাকার সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তাঁর মরদেহ রাখা হবে। এরপর বেলা দুইটায় আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে নগরের রায়নগর এলাকার পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হবে।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক অর্থমন্ত্রীর মৃত্যুতে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ দুই দিনের শোক পালন করবে। এর অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করবেন। এ ছাড়া ঈদের পরদিন বাদ জোহর মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় হজরত শাহজালাল (রহ.) মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল হবে। পাশাপাশি সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় দোয়া ও বিশেষ প্রার্থনা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আবুল মাল আবদুল মুহিত গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ৫৬ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

দলীয় নেতা-কর্মীরা বলেন, আবুল মাল আবদুল মুহিত ১৯৩৪ সালের ২৫ জানুয়ারি সিলেট শহরের ধোপাদীঘিরপাড়ে জন্মগ্রহণ করেন। তৎকালীন সিলেট জেলা মুসলিম লীগের কর্ণধার আবু আহমদ আবদুল হাফিজ ও সৈয়দা শাহার বানু চৌধুরীর ১৪ সন্তানের মধ্যে তৃতীয় সন্তান মুহিত। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে উচ্চতর ডিগ্রি নেন আবদুল মুহিত। ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন তিনি। পরের বছর একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

আবুল মাল আবদুল মুহিতে ভাষা আন্দোলনে অংশ নেন। ছাত্রজীবনে তিনি সলিমুল্লাহ হল ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৫৬ সালে যোগ দেন পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে (সিএসপি)। সিএসপিতে যোগ দিয়ে তিনি ওয়াশিংটন দূতাবাসে পাকিস্তানের কূটনীতিকের দায়িত্ব নেন এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের জুন মাসে পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করেন। যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাঁকে ২০১৬ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন