বিজ্ঞাপন

টগরা গ্রামের মো. আতিকুর রহমান বলেন, দুই বছর আগে বেড়িবাঁধ তৈরি করা হয়েছিল। গত বছর ঘূর্ণিঝড় আম্পানে বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জোয়ারের পানিতে বাড়িঘর তলিয়ে গেছে। দুপুরে অনেক বাড়িতে রান্না করা হয়নি। বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় কচা নদীর তীরের বাড়িগুলোতে যাতায়াত করতে কষ্ট হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ২৯৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে মঠবাড়িয়া উপজেলায় ১৪০ কিলোমিটার ও ইন্দুরকানি উপজেলায় ৯৪ কিলেমিটার। মঠবাড়িয়া উপজেলার বড়মাছুয়া স্টিমারঘাট এলাকার বাঁধ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ইন্দুরকানি উপজেলার ৯৪ কিলোমিটার বাঁধের বেশির ভাগ ক্ষতিগ্রস্ত। কয়েকটি স্থানে বাঁধ ভেঙে গেছে।

default-image

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইন্দুরকানি উপজেলার টগরা, চারাখালী, কালাইয়া, কলারণ, পূর্ব চর বলেশ্বর, পূর্ব চণ্ডিপুর, খোলপটুয়া ও সাউদখালী গ্রাম প্রতিরক্ষা বাঁধের অন্তত ১৫ থেকে ১৭টি স্থান ভাঙা রয়েছে। ভাঙা বাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। এতে পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। মঠবাড়িয়া উপজেলার বলেশ্বর নদের মধ্যে থাকা মাঝের চরের দুটি স্থানে বাঁধ ভেঙে চরের বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া পিরোজপুর সদর, ভান্ডারিয়া, মঠবাড়িয়া, নাজিরপুর কাউখালী উপজেলার ৪০টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর রাজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, মাঝের চর জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। চরের ১৮৫টি পরিবার স্থানীয় দুটি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।

পাউবোর পিরোজপুর কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ওমর ফারুক বলেন, জেলার কচা নদীর পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ভাঙা বাঁধ দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। ভেঙে যাওয়া বাঁধ সংস্কার করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

পিরোজপুরের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মোজাহারুল হক বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলায় জেলার ৭ উপজেলায় ৫৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২৩৫টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র ও ৩২২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়া দুর্যোগকালে খাদ্য ও সহায়তার জন্য ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। জেলায় ৬৭টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন