অবশিষ্ট চিড়াটুকু হাতে নিয়ে দেখিয়ে পিয়ারা বলেন, একজন এসে চিড়া-গুড় দিয়ে গিয়েছিলেন। সেটা তাঁরা একটু একটু করে খেয়েছেন। এখন এইটুকু আছে। এটাই তাঁদের শেষ সম্বল। তিনি জানি না, সামনে কী হবে! ছেলে-নাতনিকে নিয়ে কী খাবেন!
পিয়ারার বাড়ি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের দক্ষিণ বুরদেও এলাকায়। বন্যায় তাঁদের টিনের বেড়া ও ছাউনির ঘরটি ভেঙে গেছে।

বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় ঘরে ছেড়ে ছেলে-নাতনিকে সঙ্গে নিয়ে পিয়ারা চলে আসেন সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ সড়কে।

পিয়ারা জানান, তাঁরা চলে এলেও ঘর থেকে গেছেন তাঁর স্বামী রহিম মিয়া ও ছেলের বৌ রাহেলা খাতুন। তাঁদের এখন কী অবস্থা, তার কিছুই জানেন না তিনি।

সড়কে এক পরিবারের গড়া তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছেন পিয়ারারা। তাঁদের সঙ্গে বাড়তি কাপড় নেই। নেই খাবারদাবার। বৃষ্টি হলে তাঁরা তাবুর নিচে বসে থাকেন। আর অপেক্ষায় থাকেন ত্রাণের।

আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পিয়ারা ত্রাণ পাওয়ার জন্য সড়কে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখন তাঁর সঙ্গে ছিল ছোট ছেলে আজাদুর রহমান ও নাতনি রাইসা বেগম।

সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা পিয়ারাসহ অন্যরা জানান, আজ দুপুরের দিকে ত্রাণ নিয়ে স্থানীয় এক ইউপি চেয়ারম্যান এসেছিলেন। ত্রাণ পেতে লোকজনের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। এই পরিস্থিতি মাত্র কয়েকজন ত্রাণ পান। তারপরই ত্রাণ দিতে আসা লোকজন নৌকা ঘুরিয়ে চলে যান।

হুড়োহুড়ি-ঠেলাঠেলির কারণে ত্রাণ নিতে পারেননি পিয়ারা। বলেন, তিনি বয়স্ক মানুষ। ঠেলাঠেলিতে ত্রাণের লোকের কাছেই যেতে পারেননি তিনি।

পিয়ারা বলেন, গুড় গতকালই শেষ হয়ে যায়। চিড়াও শেষের পথে। এ অবস্থায় আজ সকাল থেকে ছেলে-নাতনিকে একটু একটু করে চিড়া দিচ্ছেন। তাঁর নিজের আর খাওয়ার অবস্থা নেই। ছেলে-নাতনি শুধু চিড়া খেতে চায় না। এদিকে, বিশুদ্ধ পানিও নেই। তেষ্টা পেলে তাঁরা বন্যার পানি পান করছেন।

পিয়ারার নাতনি রাইসা তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। সে বলে, তার অনেক কষ্ট হচ্ছে। ক্ষুধা লাগে। কিন্তু খাওয়ার কিছু নেই।

পিয়ারাদের মতো বন্যাদুর্গত শতাধিক মানুষকে ত্রাণের আশায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁদের কেউ কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন। কেউ আবার রাস্তার পাশে রাত কাটাচ্ছেন।

গাড়ি বা সিএনজিতে করে কেউ এলেই সবাই দৌড়ে কাছে যাচ্ছেন। ত্রাণ দেবেন কি না, নাম তালিকা নেবেন কি না, তাঁরা সেসব জানতে চাচ্ছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন