বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২৪০ বছরের পুরোনো জেলা

জেলা হিসেবে যশোরের প্রতিষ্ঠা প্রায় ২৪০ বছর আগে, ১৭৮১ সালে। প্রথম প্রতিষ্ঠিত যশোর জেলার সীমানা খুলনা, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, অবিভক্ত যশোরসহ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিশাল অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত ছিল। ১৯৮৪ সালে সরকার যশোরকে ভেঙে পুনর্গঠন করে। জেলার চার মহকুমা নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ ও যশোর স্বতন্ত্র চার জেলায় রূপান্তরিত হয়।

যশোর পৌরসভার গোড়াপত্তন হয় ১৫৭ বছর আগে, ১৮৬৪ সালের ১ আগস্ট। তখন এর নাম ছিল যশোর পৌর সমিতি। স্বাধীনতার পর পৌরসভার মর্যাদা দেওয়া হয় যশোরকে। ১৯৭৩ সালে জনগণের সরাসরি ভোটে যশোর পৌরসভার প্রথম নির্বাচন হয়। এখন এর আয়তন ১৪ দশমিক ৭২ বর্গকিলোমিটার। লোকসংখ্যা ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৯১৪।

পুরোনো জেলা হলেও শহর হিসেবে যশোর অনেকটাই পিছিয়ে। এ শহরে এখনো পানি সরবরাহের ব্যবস্থা আংশিক, ৪৫ শতাংশ মানুষ পায় পৌরসভার পানি। শহর বড় হচ্ছে, যেখানে-সেখানে ঘরবাড়ি করছে মানুষ। কয়েকটি ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতার সমস্যা রয়েছে। অবশ্য যশোরে ধুলাবালি ও দূষণ কম। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, যশোরকে পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ এখনো আছে।

১৯৬১ সাল থেকে যশোর শহরে বসবাস করছেন যশোর সরকারি এম এম কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আফসার আলী (৮১)। তাঁর কথায়, ছিমছাম, নিরিবিলি শহর ছিল যশোর। বহুতল স্থাপনা ছিল চার-পাঁচটি। এখন প্রায় সব সড়ক পাকা হয়েছে, বহুতল স্থাপনা হয়েছে অনেক। কিন্তু শহরে আগের সেই প্রাণ এখন নেই। তবু অন্য শহরের তুলনায় এখনো কিছুটা স্বস্তি আছে এখানে।

জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ

যশোর শহরের পানি নিষ্কাশিত হয় ভৈরব নদ ও মুক্তেশ্বরী নদী দিয়ে। এখন ভৈরব নদের সংস্কারকাজ চলছে। শহরের দক্ষিণ পাশ দিয়ে বয়ে গেছে একটি খাল। সাড়ে চার কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ খাল শহর থেকে মুক্তেশ্বরী নদীতে গিয়ে মিশেছে। কিন্তু খালটি বেশির ভাগ অংশ দখল হয়ে সরু নালায় পরিণত হয়েছে। ঠিকমতো পানি নিষ্কাশিত না হওয়ায় এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে পানি জমে যায়। দুর্ভোগে পড়ে মানুষ।

যশোর পৌরসভার মেয়র হায়দার গনী খান প্রথম আলোকে বলেন, খালটি দখল হয়ে যাওয়ায় শহরের একটি অংশে জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। জলাবদ্ধতা দূর করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক ও নর্দমা নির্মাণে দরপত্রের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে। এ ছাড়া ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক উন্নয়ন ও নর্দমা নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান প্রক্রিয়াধীন। আট কোটি টাকা ব্যয়ে শহরের বস্তি উন্নয়নের জন্য আরও একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে শহরের উন্নয়ন দৃশ্যমান হবে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের পর যশোর একটি স্বচ্ছ, সুন্দর, পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন শহরে পরিণত হবে।

প্রাণহীন ভৈরব নদ

যশোর শহরের ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে ভৈরব নদ। একসময় নদটি ছিল শহরের প্রাণ। যদিও এখন এ নদের প্রাণ যায় যায়। দখল ও দূষণে প্রমত্তা ভৈরব এখন মরা খাল। শহরের পয়োবর্জ্য ও গৃহস্থালি বর্জ্যযুক্ত পানি গিয়ে পড়ে ওই নদে। পানি কুচকুচে কালো। কোথাও কোথাও কচুরিপানায় ভর্তি। শহরবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে যশোরে এসে ভৈরব নদ খননের প্রতিশ্রুতি দেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২৭২ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে পাঁচ বছর মেয়াদি ‘ভৈরব রিভার বেসিন এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প’ শুরু হয়। ইতিমধ্যে ভৈরব নদের তিন কিলোমিটারে (যশোর শহর অংশে) খননকাজ হয়েছে।

শহরের বাবলাতলা থেকে নীলগঞ্জ পর্যন্ত ভৈরব নদের চার কিলোমিটারের মধ্যে নির্মিত হয়েছে ছোট ছোট সাতটি সেতু। সেগুলোর দৈর্ঘ্য ৫০ থেকে ১০০ ফুটের মধ্যে। অথচ নদের প্রশস্ততা ১৫০ থেকে ২৫০ ফুট। নদের দুই পাড় মাটি দিয়ে ভরাট করে সেতু নির্মাণের ফলে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নদের পানির স্তর থেকে সেতুগুলোর উচ্চতা ১০ ফুটের কম। এ উচ্চতার সেতু নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে।

ভৈরব নদ সংস্কার আন্দোলনের উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ প্রথম আলোকে বলেন, ভৈরব নদ দিয়ে একসময় ব্যবসা-বাণিজ্য হতো। যশোর ও খুলনার মধ্যে পণ্যবাহী বড় বড় নৌকা চলাচল করত। কিন্তু ভৈরব উন্নয়নের নামে যেনতেনভাবে সংকীর্ণ সেতু-কালভার্ট নির্মাণ করে নদটি মেরে ফেলা হয়েছে। এখন অবশ্য নদ সংস্কার চলছে। তা নিয়ে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার কারণে সুফল পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। এটা দখলকারীদের নদটি দখলের সুযোগ করে দিয়েছে।

শিক্ষার সুবিধা

যশোরে শিক্ষার বিকাশ ও উৎকর্ষ সাধন সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই শুরু হয়েছে। এ উপমহাদেশে যে প্রথম চারটি স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়, তার মধ্যে যশোর জেলা স্কুল অন্যতম, এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৩৮ সালে। ১৩২ জন শিক্ষার্থী নিয়ে স্থানীয় জমিদারপত্নী ক্যাত্যারিনীর কাছারিতে এর কার্যক্রম শুরু হয়। তখন এর নাম ছিল ‘যশোর সরকারি মডেল স্কুল’।

পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সম্মিলনী ইনস্টিটিউট। এটি বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী রায়বাহাদুর যদুনাথ মজুমদার ১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন। মধুসূদন তারা প্রসন্ন উচ্চবালিকা বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২৬ সালে। যশোরের শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পুরোনো বিদ্যালয়গুলোতেই অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানদের পড়াতে আগ্রহী।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আমিরুল আলম খান প্রথম আলোকে বলেন, যশোর জিলা স্কুল, সম্মিলনী ইনস্টিটিউট ও মধুসূদন তারা প্রসন্ন বালিকা উচ্চবিদ্যালয় গুণগত মানের দিক দিয়ে এখনো ভালো।

উচ্চশিক্ষার জন্য যশোরে রয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি), যশোর মেডিকেল কলেজ এবং সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজ।

স্বাস্থ্যে সংকট

যশোর শহরে ৯৪টি বেসরকারি ক্লিনিক ও রোগনির্ণয় কেন্দ্র রয়েছে। আছে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ। তবে চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। বেসরকারি ক্লিনিক ও রোগনির্ণয় কেন্দ্রগুলোতে মান তদারকি হয় না। বরং অনেক প্রতিষ্ঠানে ভালো চিকিৎসা পাওয়ার পরিবর্তে রোগীরা প্রতারণার শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। জটিল কোনো রোগ হলেই মানুষ চিকিৎসার জন্য ছুটে যায় পাশের দেশ ভারতে। অনেকে হয় ঢাকামুখী।

চিকিৎসার জন্য যশোরের মানুষের সবচেয়ে ভরসার জায়গা এখন যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল। করোনারি কেয়ার ইউনিটের (সিসিইউ) ২৮টি শয্যাসহ এ হাসপাতালে এখন শয্যাসংখ্যা ২৭৮। তবে সব সময় সাড়ে চার শ থেকে সাড়ে পাঁচ শ রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকে। হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন চিকিৎসা নেন প্রায় দুই হাজার রোগী।

সংস্কৃতিচর্চার পীঠস্থান

যশোর শহরে একসময় পাঁচটি সিনেমা হল ছিল। মণিহার, নিরালা, চিত্রা, মানসী, তসবির মহল এবং যশোর সেনানিবাসে গ্যারিসন সিনেমা হল। বর্তমানে মণিহার সিনেমা হল চালু আছে। তসবির মহল হলটি অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে। ১ হাজার ৪০০ আসনের মণিহার দেশের সবচেয়ে পুরোনো সিনেমা হলগুলোর একটি।

কাগজে-কলমে যশোরে সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে ৪০টির মতো। এর মধ্যে ৩২টি সংগঠনকে সক্রিয় দেখা যায়। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, যশোরের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান বলেন, যশোর শহর সংস্কৃতিচর্চায় অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বহু আগে থেকেই যশোরে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছে। একসময় শহরের পাড়ায় পাড়ায় ও প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। এখন সেটি কমেছে।

যশোরে বিনোদনকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ছে। চারটি পার্ক রয়েছে। আরও দুটি পার্ক উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে। দর্শনীয় স্থান ও ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে রয়েছে চাঁচড়া জমিদারবাড়ি ও ইমামবাড়া।

গণপরিবহন নেই

যশোর শহরে গণপরিবহন বলতে তেমন কিছু নেই। মোটরচালিত রিকশা, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলে চলাচল করে মানুষ। পরিবহন ব্যবস্থাপনার কোনো বালাই নেই। যেখানে-সেখানে ইজিবাইক, রিকশা দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করা হয়। পৌরসভার নিবন্ধিত ইজিবাইকের সংখ্যা ৩ হাজার ২০০। কিন্তু প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার ইজিবাইক ও রিকশা এ শহরে চলাচল করে। পৌরসভা ইজিবাইক ও রিকশা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেও তা কার্যকর করতে পারেনি।

কালেক্টরেট বিল্ডিং

উপমহাদেশের প্রথম কালেক্টরেট হিসেবে ১৭৮৬ সালে যশোর কালেক্টরেট স্থাপিত হয়। ১৮০১ সালে যশোর কালেক্টরেটের নিজস্ব ভবন তৈরি হয়। কালেক্টরেট ভবনটি যশোর শহরের দড়াটানায় অবস্থিত। ভবনটি এখন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়।

উপমহাদেশে ব্রিটিশ স্থাপনাগুলোর মধ্যে ভবনটি প্রাচীনতম। ১৭৮১ সালে যশোর জেলা ঘোষণার পর প্রথম জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করেন টিলম্যান হেঙ্কেল (১৭৮১-১৭৮৯)। এ ভবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ব্রিটিশ, ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের অনেক বিখ্যাত কর্মকর্তার নাম। অনন্য মহিমায় দাঁড়িয়ে থাকা ভবনটি নিজেই যেন ব্রিটিশ শাসনের ২০০ বছরের একটি ইতিহাস। নয়নাভিরাম ও দৃষ্টিনন্দন লাল রঙের ভবনটি প্রথম দর্শনে যে কারোরই নজর কাড়ে।

মাছ ও ফুলের চাষ, আছে গুড়ের খ্যাতি

যশোর শহরের চাঁচড়া এলাকায় রয়েছে ৪২টি হ্যাচারি। এসব হ্যাচারিতে দেশি সরপুঁটি, ট্যাংরা, শিং, মাগুর, নোনা ট্যাংরা, রুই, কাতলা, থাই পাঙাশ, কই, সিলভার কার্প, কালবাউশ, মিরর কার্প, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের রেণু পোনা উৎপাদন করা হয়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, হ্যাচারিতে উৎপাদিত রেণু দেশের মোট চাহিদার ৬০ শতাংশ পূরণ করছে। এ ছাড়া এখানে পোনা এবং মাছও উৎপাদিত হয়। রেণু, পোনা এবং মাছ থেকে এখানে আড়াই শ কোটি টাকার লেনদেন হয়।

ফুল চাষেও খ্যাতি আছে যশোরের। মূলত আশির দশকের শুরুতে বাণিজ্যিকভাবে যশোরে ফুল চাষ শুরু হয়। ঝিকরগাছার গদখালী এখন ‘ফুলের রাজধানী’। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যশোরে ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ হয়। যশোরে ফুলের বাজার বছরে প্রায় চার শ কোটি টাকার।

যশোরের খেজুরের রস যেমন সুমিষ্ট, তেমনি এ রস দিয়ে তৈরি গুড়-পাটালি স্বাদে ও গন্ধে অতুলনীয়। খেজুরের রসভান্ডার যশোরে রয়েছে ১৬ লাখ ৪১ হাজার ১৫৫টি খেজুরগাছ। এর মধ্যে রস হয় এমন খেজুরগাছ আছে ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫৫টি। বছরে গড়ে প্রায় পাঁচ হাজার মেট্রিক টন গুড় ও পাটালি উৎপাদিত হয় এখানে। বছরে রস, গুড় ও পাটালির বাণিজ্য ৬৩ কোটি টাকার বেশি।

যশোরের বাসিন্দারা বলছেন, ঐতিহ্যের এই শহরকে সুপরিকল্পিত করতে মহাপরিকল্পনা দরকার। ২০২০ সালে একটি পরিকল্পনা তৈরি করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।

যশোরে নাগরিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ইকবাল কবির জাহিদ প্রথম আলোকে বলেন, দ্রুত মহাপরিকল্পনার প্রজ্ঞাপন করে যশোর শহরকে সে অনুযায়ী গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন