default-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের হরতালের সময় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের জন্য পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। তারা ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে। সোমবার বেলা দুইটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে স্থানীয় সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার এই দাবি করেন।

সোমবার দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। মতবিনিময় সভায় সভাপতি ও স্থানীয় সাংসদ মোকতাদির চৌধুরী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার বক্তব্য দেন।

মতবিনিময় সভায় প্রথমেই বক্তব্য দেন আল মামুন সরকার। তিনি বলেন, রোববার হরতাল পালনের সময় জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ তাঁর (আল মামুনের) কার্যালয় ও বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং গানপাউডার ছিটিয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়। হামলার সব প্রমাণ রয়েছে। পৌরসভা থেকে ১০ হাত দূরে ফায়ার স্টেশন কিন্তু আগুন নেভাতে তাঁদের কেউ আসেননি।

বিজ্ঞাপন

কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন আল মামুন সরকার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার অফিসে আমার সারা জীবনের অর্জন বিভিন্ন নথিপত্র ছিল। সব তারা পুড়িয়ে ফেলেছে। কোনো দিন এসব আর ফেরত পাব না। আমি সরকারের কাছে জানতে চাই, কেন প্রশাসন আমাদের নিরাপত্তা দিতে পারল না? কেন তারা হামলাকারীদের ঠেকাতে পারল না? কেন প্রশাসনের এই নীরবতা? আর প্রশাসন বলেছে, তারা কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল বিশ্বরোড মোড় থেকে কাউতলী পর্যন্ত রক্ষা করেছে।’

সাংসদ মোকতাদির চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘রোববারের ঘটনার সময় সরকারের উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করেছি। জেলার ডিসি ও এসপির সহায়তা চেয়েছি। থানার ওসিকে ফোন করেছি। অ্যাকশনে যেতে বলেছি। আমি তো আর দারোগার ভূমিকায় নামতে পারি না। নাসিরনগরের হামলাসহ আগের ঘটনাগুলোতেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কাউকে আইনের আওতায় আনা হয়নি। কেন আনা হয়নি জানি না। আর রোববারের সমস্ত ঘটনার দায়দায়িত্ব হেফাজতকে নিতে হবে।’

আমি সরকারের কাছে জানতে চাই, কেন প্রশাসন আমাদের নিরাপত্তা দিতে পারল না? কেন তারা হামলাকারীদের ঠেকাতে পারল না? কেন প্রশাসনের এই নীরবতা?
আল মামুন সরকার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক

সাংসদ রোববারের ঘটনায় সদ্য সমাপ্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা নির্বাচনের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র প্রার্থী বিএনপির জহিরুল হক ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাহমুদুল হক ভূইয়া এবং তাঁদের কর্মী-সমর্থকের যুক্ত থাকার অভিযোগ করেন। সাংসদ বলেন, ‘হরতালের দিন রাজনৈতিক নেতাদের বসতবাড়িতে হামলার ঘটনা কোনো দিনও দেখিনি। সমস্ত ঘটনার জন্য শক্তিশালী বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাই। আর আমাদের বারবার তাগাদা সত্ত্বেও যেসব বিভাগ নির্যাতিত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি, সেসব বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্বারা যেন বিভাগীয় তদন্ত করা হয়। বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাই, কারণ কেন হামলা হলো, কারা হামলা করল, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেসি কেন নিষ্ক্রিয় এবং নীরব ভূমিকায় ছিল, থানা থেকে মাইকিং হলো—এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা দরকার। তিন দিনেও ক্ষতিগ্রস্ত স্থানের কোথাও প্রশাসনের কেউ পরিদর্শন করেনি। আজ ডিআইজি এসেছে বলে পুলিশ গিয়েছে।’

এর আগে বেলা ১১টার দিকে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন করেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা তদন্তের জন্য চট্টগ্রামের অতিরিক্ত ডিআইজি জাকির হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করার কথা জানিয়েছেন।

জেলার ডিসি ও এসপির সহায়তা চেয়েছি। থানার ওসিকে ফোন করেছি। অ্যাকশনে যেতে বলেছি। আমি তো আর দারোগার ভূমিকায় নামতে পারি না।
র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংসদ

ডিআইজি আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ভিডিও চিত্র ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দুটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করবে। তিন দিন ধরে পুলিশ ও প্রশাসনের নীরব ভূমিকা, তথ্য প্রদানে সাংবাদিকদের এড়িয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পুলিশ মাঠেই ছিল। রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা ছিল, তাই কোথাও পৌঁছাতে দেরি হয়েছে।’

আর চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এ বি এম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রশাসন তার স্ট্র্যাটেজি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছে।’ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিষয়ে সাংসদের তদন্তের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তদন্তের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি।’

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন