default-image

রংপুরের বদরগঞ্জের চম্পতলি গ্রামের মহুবার আলী (৫০) ঢাকার সাভারে রিকশা চালাতেন। পরিবার নিয়ে থাকতেন ভাড়া বাসায়। কিন্তু বাদ সাধে মহামারি করোনা। গত বছর মহামারির কারণে অঘোষিত লকডাউন শুরু হলে বন্ধ হয়ে যায় তাঁর আয়ের পথ। একসময় ফুরিয়ে যায় জমানো টাকা। বাধ্য হয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ঢাকা ছাড়েন মহুবার।

পরিবার নিয়ে টিকে থাকতে নিজের গ্রামের বাড়িতে ফেরেন মহুবার। সেখানেও লকডাউনে রিকশা-ভ্যান চালাতে দেয়নি পুলিশ। তখন তিনি ভাবতে থাকেন, ঘরে বসে কীভাবে আয় করা যায়। মাথায় আসে হাঁস পালনের কথা। হাতে থাকা কিছু টাকা ও নিকটাত্মীয়ের কাছ থেকে আরও কিছু টাকা ধার নিয়ে গত বছরের অক্টোবরে বাড়ির পাশে গড়ে তোলেন হাঁসের খামার। এখন সেই খামারে হাঁসের সংখ্যা আট শতাধিক। এই হাঁস ও ডিম বিক্রি করে লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

মহুবারের পাঁচ শতক জমিতে বসতভিটা আছে। তিন বছর আগে ৫৫ শতক কৃষিজমি দেড় লাখ টাকায় বন্ধক নিয়ে ধান চাষ করে আসছেন। বড় দুই ছেলে বিয়ে করার পর আলাদা সংসার পেতেছেন। ছোট ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে মহুবারের আলাদা সংসার।

মহুবারেরা চার ভাই। পৈতৃক সূত্রে তাঁদের নামে বাড়ির পাশে ৯ শতক জমিতে একটি পুকুর আছে। ওই পুকুরে মাছ চাষ করতেন অন্য তিন ভাই। হাঁস পালনে পুকুরটি কাজে লাগিয়েছেন মহুবার।

বিজ্ঞাপন

মহুবার জানান, খামার করার শুরুতে তাঁর হাতে জমানো টাকা ছিল ৫০ হাজার। ৩০ হাজার টাকা ধার নেন। পুকুরের ওপর হাঁসের ঘর তৈরিতে তাঁর খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। আর এক হাজার হাঁসের বাচ্চা কিনেছিলেন ৩০ হাজার টাকায়। স্থানীয় বাজারের পরিচিত এক পশুখাদ্য ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বাকিতে খাদ্য নেন। প্রশিক্ষণ না থাকায় মাসখানেক পর ১৯৬টি হাঁসের বাচ্চা অসুস্থ হয়ে মারা যায়।

গত সপ্তাহে তিনি ১০০ হাঁস বিক্রি করেছেন ৩৮ হাজার টাকায়। অন্য হাঁসগুলো ঈদের বাজারে বিক্রির চিন্তা করছেন। বর্তমানে তাঁর খামারে থাকা হাঁসের বাজারমূল্য দুই লাখ টাকার বেশি।

মহুবার বলেন, ‘মোর নেকাপড়া আর যদি হাঁস পালনের নিয়ম জানা থাকিল হয়, তা হইলে লাভটা আরও বেশি হইলো হয়। গেরামের (গ্রামের) ডাক্তারেরা মোক ঠগাইছে। একবার ডাক্তার আনলে ৫০০ টাকার কম মানে না। এক হাজার টাকার ওষুধ দিয়া দুই হাজার টাকা নেছে।’

বদরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ওমর ফারুক বলেন, করোনায় কর্মহীন না থেকে মহুবারের হাঁস পালন করে লাভবান হওয়ার উদ্যোগটি অনুসরণীয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন