বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহত সবুর মোল্লা একটি সামাজিক দলের মাতবর ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য নজরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন সামাজিক দলের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এবার ইউপি নির্বাচনে অপর সদস্য প্রার্থী সৈয়দ হাসানকে সমর্থন দিয়েছিলেন সবুর মোল্লা। এই বিরোধ থেকেই নজরুল তাঁর লোকজনকে নিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন।
প্রথমে মাগুরা সদর থানা মামলার তদন্ত করছিল।

২৪ অক্টোবর মামলাটি পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রথম পক্ষ অর্থাৎ নিহত সবুর মোল্লার ভাইয়ের করা মামলায় এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। সবশেষ রোববার ভোরে ঢাকার গাবতলী এলাকার একটি হোটেল থেকে মামলার প্রধান আসামি ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। অন্যদিকে দ্বিতীয় পক্ষের মামলায় বুধবার পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায় পুলিশ। সোমবার বিকেলে মাগুরার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জগদলের হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ১৩ অক্টোবর রাতে ইউপি সদস্য নজরুলের বাড়িতে একটি বৈঠক হয়। সেখানে নজরুলসহ সামাজিক দলের সদস্য ও সমমনা লোকজন উপস্থিত ছিলেন। সেখান থেকেই সবুর মোল্লাসহ অন্যদের হত্যার পরিকল্পনা হয়। ঘটনার দিন সবুর মোল্লাসহ তাঁর দলের অন্য কয়েকজন মিলে সৈয়দ হাসানের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা করা হয়।

মামলা দুটি এখন তদন্ত করছেন মাগুরা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন মণ্ডল। তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোববার গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ আসামির মধ্যে চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। মঙ্গলবার শুনানি শেষে আদালত নজরুল ও তুহিন হোসাইনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অন্যদিকে রিয়াজ হোসাইন ও ইয়ামিন হোসাইন নামে দুই সন্দেহভাজন আসামিকে দুই দিন করে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন আদালত।

এদিকে একই দিনে হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন জলিল শেখ ওরফে জালিম নামের এক আসামি। জগদলে তাঁর বাড়ির পাশেই ঘটনাটি ঘটে। মঙ্গলবার মাগুরা সদর থানা আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হোসেন তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওসি জয়নাল আবেদীন মণ্ডল বুধবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আসামি নজরুলসহ অন্যরা ঘটনার পরিকল্পনা ও জড়িত ব্যক্তিদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। একজন আসামি ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে সেগুলো এখন প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

তবে মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে প্রথম আলোকে জানান, জলিল শেখ পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ও আদালতে স্বীকার করেছেন, নজরুলের লোকজন প্রথমে সবুর মোল্লা, তারপর কবির মোল্লা ও রহমান মোল্লাকে কোপান। এরপর তাঁরা প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজ পক্ষের ইমরানকে হত্যা করেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন