নিজের উঠে আসার গল্প বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মজিবর রহমান। কথা আটকে আসে তাঁর। এ সময় পুরো মিলনায়তনে পিনপতন নীরবতা। মজিবর বলেন, প্রথম যেদিন ঢাকা যান, সেদিন পকেটে মাত্র ৭০০ টাকা ছিল। ব্যবসা শুরু করেছিলেন ব্যাংক থেকে পাওয়া মাত্র ৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে। শিশুছেলেদের মুখে দুধ দিতে পারেননি। পরিশ্রম আর ধৈর্য আজকের জায়গায় নিয়ে এসেছে। আজ ব্যাংক থেকে ৭ হাজার কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন হয়েছে। কিন্তু তিনি পুরো টাকা নেননি। বললেন, টাকার দরকার নেই। সততা নিয়ে কাজ করলে, পরিশ্রম করলে সফলতা আসবেই।

মজিবর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, অনেকে আছে, কুষ্টিয়ায় ব্যবসা শুরু করার পর কিছু টাকা হলেই ঢাকায় চলে যান। এতে কুষ্টিয়া পিছিয়ে যায়। তাঁর আহ্বান কুষ্টিয়ায় থেকে কুষ্টিয়ার উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে। এতে এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি উন্নত হবে কুষ্টিয়া।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাংসদ মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, দিনের পর দিন, বছরের পর বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই বিআরবি গ্রুপের সাতটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। নিষ্ঠা ও সততা ছিল বলেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছেন মজিবর রহমান। কুষ্টিয়ায় যাঁরা বিনিয়োগ করে ব্যবসা করতে চান, তাঁদের সরকার থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন সাংসদ হানিফ।

কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি রবিউল ইসলামের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কুষ্টিয়ার সাংসদ আ কা ম সরওয়ার জাহান, সেলিম আলতাফ জর্জ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী, কুষ্টিয়া নাগরিক কমিটির সভাপতি এস এম মুসতানজীদ।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মাহবুব উল আলম হানিফ সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন মজিবর রহমানের হাতে। এ সময় মঞ্চে মজিবর রহমানের দুই ছেলে বিআরবি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পারভেজ রহমান, এম আর এস ইন্ডাস্ট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামসুর রহমান ও জামাতা কিয়াম মেটাল ইন্ডাস্ট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজবার রহমান উপস্থিত ছিলেন।

মজিবর রহমান ১৯৭৯ সালে কুষ্টিয়ার বিসিক শিল্পনগরীতে প্রতিষ্ঠা করেন বিআরবি (বজলার রহমান অ্যান্ড ব্রাদার্স) কেব্‌ল ইন্ডাস্ট্রিজ। ১৯৯৪ সালে বিদ্যুতায়নের প্রসার ঘটলে তিনি কেব্‌ল উৎপাদন বাড়িয়ে দেন। ১৯৯৬ ও ২০০০ সালে উন্নত যন্ত্রপাতি স্থাপন করে কারখানাটির সম্প্রসারণ করেন। বর্তমানে উন্নত ও মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে ব্রিটেন, জার্মানি, জাপানসহ বিশ্বের অনেক দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন