এলাকাবাসী জানান, ২৪ এপ্রিল যদুনন্দী গ্রামের দুই তরুণ পাশের রূপাপাত বাজারে গেলে ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুরের সমর্থকেরা তাঁদের মারপিট করেন। এ ঘটনায় পাশের ডহন নগর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে একটি মামলাও হয়। গতকাল সন্ধ্যার দিকে যদুনন্দী গ্রামের বাসিন্দা মো. ইলিয়াসের ছেলে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী (১৪) রূপাপাত বাজারে গেলে চেয়ারম্যানের সমর্থকেরা তাঁকেও মারপিট করেন।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে কামরুজ্জামান যদুনন্দী থেকে তাঁর দলবল নিয়ে কুমার নদের সেতু পার হয়ে এগোতে চাইলে মিজানুর রহমানের লোকজনের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে বৃদ্ধ নান্নু ফকিরসহ উভয় পক্ষের ১২ জন আহত হন। পরে সালথা ও বোয়ালমারী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে রবার বুলেট, শর্টগানের গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষ থামতে গিয়ে পুলিশের আট সদস্য আহত হয়েছেন। আহত নান্নু ফকিরকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সোয়া নয়টার দিকে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

বোয়ালমারীর রূপাপাত ইউপির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ও বামন চন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি কামরুজ্জামানের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য জানা যায়নি।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, সংঘর্ষে ফরিদপুরের সালথা ও বোয়ালমারী—উভয় থানার পুলিশ রবার বুলেট, শর্টগানের গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় সালথা থানার পাঁচ, বোয়ালমারী থানার তিনজনসহ আট পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দুই থানার পক্ষ থেকে পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন