default-image

ফরিদপুরে পুলিশের উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে ভাস্কর্য ‘করোনাযোদ্ধা’। এটি নির্মিত হচ্ছে পুলিশ অফিসার্স মেস ভবনের সামনে। কংক্রিটের এই ভাস্কর্যের ভাস্কর শেখ মো. দুলালউদ্দিন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শহরের প্রধান সড়ক মুজিব সড়ক দিয়ে টেপাখোলার দিকে এগিয়ে গেলে পুলিশ অফিসার্স মেস ভবন। এই ভবনের সামনে ছয় ফুট উঁচু একটি বেদির ওপর তিনটি ভাস্কর্য নির্মিত হচ্ছে। প্রতিটি ভাস্কর্যের মধ্যে চার ফুট দূরত্ব রয়েছে। বেদির মাঝে মূল ভাস্কর্যের উচ্চতা ১২ ফুট। এই ভাস্কর্যের অবয়বটি একজন পুরুষ পুলিশ সদস্যের। তার এক হাতে একটি হ্যান্ডমাইক এবং আরেক হাতে ওয়াকিটকি। বাঁ পাশে রয়েছে পুলিশের একজন নারী সদস্য, উচ্চতা ১১ ফুট। তার হাতে আছে মাস্ক। ডান পাশে রয়েছে পুলিশের আরেক পুরুষ সদস্য, উচ্চতা সাড়ে ১১ ফুট। তার হাতে হ্যান্ডস্যানিটাইজার। তিনটি ভাস্কর্যের মুখে সাঁটানো রয়েছে মাস্ক।

বিজ্ঞাপন

গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে ভাস্কর্য নির্মাণে কাজ শুরু করেন শিল্পী শেখ মো. দুলালউদ্দিন। লোহার ওপর কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে ভাস্কর্যটি। নির্মাণকাজ শেষ হতে আরও এক মাস সময় লাগবে বলে জানান শিল্পী।

শিল্পী শেখ মো. দুলালউদ্দিন বলেন, পুলিশ সম্পর্কে লোকসমাজে ধারণা খুব একটা ভালো ছিল না। তবে করোনাকালে সাধারণ মানুষের প্রতি পুলিশের মানবিক ও সহানুভূতিশীল আচরণ পুলিশ সম্পর্কে মানুষের চিন্তা ও চেতনার জগতে আমূল পরিবর্তন আনে। করোনা পরিস্থিতিতে পুলিশ সত্যিকারের অর্থে হয়ে উঠেছিল করোনাযোদ্ধা। সে জন্যই জেলা পুলিশের উদ্যোগে ‘করোনাযোদ্ধা’ নামে এই ভাস্কর্য নির্মাণের আয়োজন।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বলেন, ২০২০ সাল থেকে সারা বিশ্ব করোনা নামের একটি মহামারির বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত। এ যেন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। বাংলাদেশে এ যুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা ছিল সম্মুখসারিতে। ভবিষ্যতে হয়তো করোনাকে মেনে নিয়ে বসবাস করতে হবে। তখন এই ভাস্কর্য মানুষকে সচেতন হতে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পথ দেখাবে। এ জন্য জেলা পুলিশের উদ্যোগে ‘করোনাযোদ্ধা’ নামের এই ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন