বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সদর উপজেলার কুপতলা গ্রামের কলেজশিক্ষক বকুল মিয়া বলেন, তাঁদের গ্রামের এক ব্যক্তি ৫ জুলাই গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে অ্যান্টিজেন পরীক্ষার নমুনা দেন। উপসর্গ থাকার পরও তাঁর রিপোর্ট নেগেটিভ হয়। এরপর তাঁর নমুনা আরটি–পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়। কিন্তু সোমবার (১২ জুলাই) পর্যন্ত রিপোর্ট আসেনি। এর মধ্যে তিনি হাটবাজারে যাচ্ছেন, চায়ের স্টলে সবার সঙ্গে চা পান করছেন। এতে তাঁর সংস্পর্শে যাঁরা এসেছিলেন, তাঁরা ঝুঁকির মধ্যে পড়বেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার এক যুবক জানান, গাইবান্ধায় অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় নেগেটিভ আসে। কিন্তু রংপুরে নমুনা পাঠানোর আট দিন পর পজিটিভ রিপোর্ট পেয়েছেন। একই উপজেলার কাজলা গ্রামের কলেজছাত্র মিল্লাত হোসাইন বলেন, গ্রামের এক ব্যক্তি ঢাকায় রিকশা চালাতেন। তিনি লকডাউনের আগে সর্দি–কাশি নিয়ে বাড়ি এসেছেন। ৭ জুলাই অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় তাঁর নেগেটিভ রিপোর্ট এলে নমুনা রংপুরে পাঠানো হয়। কিন্তু সোমবার পর্যন্ত তিনি রিপোর্ট পাননি। নমুনা দেওয়ার পর থেকে ওই ব্যক্তি ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

নমুনা দেওয়া এসব ব্যক্তি হাসপাতালের ভেতরে–বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সাধারণ রোগীদের ঘোরাফেরা তো আছেই। ফলে কে সাধারণ রোগী কে করোনা রোগী, তা বোঝার উপায় নেই।

গাইবান্ধা নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বলেন, রংপুর থেকে রিপোর্ট আসতে সাত–আট দিন লাগছে। আক্রান্ত ব্যক্তিরা রিপোর্ট আসার আগের দিনগুলো হাটবাজার, বিপণিবিতান ও জনসমক্ষে ঘুরে বেড়ান। ফলে সর্বনাশ যা হওয়ার হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা গাইবান্ধায় আরটি–পিসিআর ল্যাব স্থাপনের জন্য নাগরিক মঞ্চের ব্যানারে মানববন্ধন করেছি। আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। এখানে ল্যাব স্থাপন করলে এ সমস্যা থাকবে না।’

এদিকে করোনার উপসর্গ আছে, কিন্তু গাইবান্ধায় অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় নেগেটিভ ফলাফল এসেছে, এমন আট থেকে নয়জন গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি। ফলাফল আসতে বিলম্ব হওয়ায় তাঁদের অপেক্ষমাণ কক্ষে রাখা হয়েছে। ফল পজিটিভ এলে তাঁদের করোনা ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানান কর্তব্যরত নার্সরা।

গাইবান্ধা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা সুজন প্রসাদ বলেন, পুরুষ ওয়ার্ডের পাশে নমুনা নেওয়া ব্যক্তিদের জন্য অপেক্ষমাণ কক্ষ খোলা হয়েছে। নমুনা দেওয়া এসব ব্যক্তি হাসপাতালের ভেতরে–বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সাধারণ রোগীদের ঘোরাফেরা তো আছেই। ফলে কে সাধারণ রোগী কে করোনা রোগী, তা বোঝার উপায় নেই।

জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা হারুণ-অর-রশিদ বলেন, টেলিভিশন ও সংবাদপত্রে সর্তকতামূলক প্রচারণা চলছে। তাঁরাও সর্তক করছেন। তারপরও অপেক্ষমাণ ইউনিটে থাকা ব্যক্তিরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এসব দেখভালের জন্য তেমন লোকবল নেই। স্বেচ্ছাসেবকও দেওয়া হয়নি। ফলে ঘোরাফেরা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

গাইবান্ধার সিভিল সার্জন আ ক ম আখতারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, রিপোর্ট পেতে বিলম্ব হওয়ায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে নমুনা নেওয়ার সময় তাঁদের ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আরটি–পিসিআর ল্যাবের জন্য কমপক্ষে দুজন অধ্যাপকসহ অবকাঠামো দরকার। কিন্তু গাইবান্ধায় সেই অবকাঠামো নেই। অবকাঠামো থাকলে টেকনিশিয়ানদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আরটি–পিসিআর ল্যাবের ব্যবস্থা করা যেত। তখন এ সমস্যা থাকত না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন