রাজধানী ঢাকা থেকে নোয়াখালীর উদ্দেশে রওনা হয়েছে ধর্ষণ ও নিপীড়নবিরোধী লংমার্চ। শনিবার সকাল ১০টায় ফেনী শহরের শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কে
রাজধানী ঢাকা থেকে নোয়াখালীর উদ্দেশে রওনা হয়েছে ধর্ষণ ও নিপীড়নবিরোধী লংমার্চ। শনিবার সকাল ১০টায় ফেনী শহরের শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কেপ্রথম আলো

ফেনীতে ধর্ষণ ও নিপীড়নবিরোধী লংমার্চে স্থানীয় ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ হামলায় ১৫ জন আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা ছয়টি গাড়িও ভাঙচুর করেছেন।

হামলায় আহত ব্যক্তিদের মধ্যে মো. হৃদয়, আসমানি আশা, আনিকা, শাহাদাত, জাওয়াদের নাম জানা গেলেও অন্যদের নাম জানা যায়নি। আহত ব্যক্তিরা সবাই শহরের বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ছাড়া হামলায় স্থানীয় তিনজন সংবাদকর্মীও আহত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও লংমার্চসংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা যায়, সারা দেশে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনবিরোধী লংমার্চের অংশ হিসেবে আজ শনিবার সকালে ফেনী শহরের ট্রাংক রোডের শহীদ মিনার চত্বরে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর আয়োজনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শেষে সভাস্থল থেকে মিছিল নিয়ে নোয়াখালী যাওয়ার জন্য গাড়িতে ওঠার সময় শহরের কুমিল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পুলিশের উপস্থিতিতে লংমার্চের পেছনের দিক থেকে অতর্কিত হামলা চালান ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। এ সময় লংমার্চে অংশগ্রহণকারী ১৫ জন আহত হন। একই সময়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লংমার্চের ৬টি বাস ভাঙচুর করা হয়।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাসুদ রানা অভিযোগ করেন, ফেনী থেকে নোয়াখালী যাওয়ার পথে দাগনভূঞা পৌর শহরেও লংমার্চকে স্বাগত জানানোর জন্য অপেক্ষমাণ নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। এতে সেখানে নির্ধারিত পথসভা না করে তাঁরা নোয়াখালীর দিকে চলে যান।

বিজ্ঞাপন
default-image

লংমার্চের মিছিলে হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল প্রথম আলোকে বলেন, তিনি খবর নিয়ে জেনেছেন, হামলার সঙ্গে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কোনো নেতা-কর্মী জড়িত ছিলেন না। লংমার্চে অংশ নেওয়া লোকজনের হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্থানীয় সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারীর ছবিসংবলিত বেশ কিছু ফেস্টুনে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ লেখা (চিকা) থাকায় এবং সমাবেশে তাঁরা উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হন। এ ঘটনা নিয়ে তাঁদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

এ বিষয়ে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাইনুল ইসলাম বলেন, লংমার্চের থাকা কিছু কর্মীর সঙ্গে স্থানীয় সাংসদের ছবিসংবলিত কিছু ফেস্টুনে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ লেখা থাকায় তাঁর সমর্থকেরা ক্ষুব্ধ হন। এ নিয়ে লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে বিক্ষুব্ধদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। কিন্তু পুলিশ সতর্ক থেকে লংমার্চের কর্মীদের নোয়াখালী যেতে সহায়তা করেছে।

অপর দিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ বিকেলে জেলা ছাত্রলীগ সংবাদ সম্মেলনের আহ্বান করেছে।

মন্তব্য পড়ুন 0