default-image

‘ঈদের জন্য আমি মূলত এমন একটা পোশাক চেয়েছিলাম যেটা না শার্ট, না পাঞ্জাবি, না ফতুয়া। উৎসবেও পরতে পারব, অন্য সময়ও পরতে পারব। শেষ পর্যন্ত পেয়েও গেলাম’—রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে এভাবেই নিজের কেনা ঈদ পোশাকের কথা বলছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইমুম। দেখা গেল, তাঁর পোশাকটি শার্টের চেয়ে একটু লম্বা, পাঞ্জাবির চেয়ে ছোট। ওই পোশাকটি শার্ট, ফতুয়া আর পাঞ্জাবির সংমিশ্রণ।
একই জায়গায় কথা হলো একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তরুণ কর্মকর্তা নাসিমুল করিমের সঙ্গে। তিনি জানালেন, ঈদের দিন পরার জন্য মসলিনের ওপর ভারী কাজ করা একটি পাঞ্জাবি কিনেছেন। ঈদের নামাজ পড়ার সময় আর কোথাও বেড়াতে গেলে এটি পরবেন।
দোকানি এবং ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ঈদ পোশাকের ক্ষেত্রে ছেলেদের পছন্দ এখন আর পাঞ্জাবিতেই সীমাবদ্ধ নেই। পাঞ্জাবির পাশাপাশি ফতুয়া, শার্ট, টি-শার্ট, পোলো শার্ট, ক্যাজুয়াল শার্ট, ফরমাল শার্ট, জিনস প্যান্টসহ সব ধরনের পোশাক কেনাকাটার তালিকায় রয়েছে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন বিপণিবিতান ঘুরে দেখা গেছে, ঈদ কেনাকাটায় ছেলেরাও পিছিয়ে নেই। পছন্দের পোশাক কিনতে তাঁরা চষে বেড়াচ্ছেন এক মার্কেট থেকে আরেক মার্কেটে। ব্যান্ড, নন-ব্র্যান্ড সব দোকানেই ভিড়। তবে দেশি ব্র্যান্ডগুলোর প্রতি আগ্রহ যেন কিছুটা বেশি।
এবারের ঈদের বাজারে ছেলেদের পোশাকে নতুন একটি সংযোজন দেখা গেল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামে কটি পাওয়া যাচ্ছে অনেক দোকানে। বসুন্ধরা সিটির পোশাকের দোকান তাকদীর-এর বিক্রয়কর্মী সুমন জানালেন, কয়েকটি রঙে পাওয়া যাচ্ছে ‘মোদি কটি’। কারা এটা কিনছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মূলত তরুণেরাই কিনছে। মানুষের পছন্দ হবে জেনে নিজেরাই এ পোশাকটি তৈরি করেছেন বলে জানালেন একাধিক দোকানি।
কয়েকজন ডিজাইনারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে পোশাকের ডিজাইনে মনোযোগ দিয়েছেন তাঁরা। উৎসবের কারণে রঙের ব্যবহারে বৈচিত্র্য রয়েছে, অন্যদিকে গরমের কারণে সুতি কাপড়ের ব্যবহার করা হয়েছে বেশি। তাঁদের মতে, এবার তরুণদের কাছে স্লিম ফিটের পাঞ্জাবির কদরই বেশি। এসব পাঞ্জাবিতে হালকা নকশা কিংবা কখনো কখনো কোনো নকশাই থাকে না।
ফ্যাশন হাউস রঙের অংশীদার ও ডিজাইনার বিপ্লব সাহা প্রথম আলোকে বলেন, ‘তরুণদের কথা মাথায় রেখে ফিউশনধর্মী কাজ করেছে রঙ। এ ছাড়াও সব বয়সীদের কথা মাথায় রেখে ডিজাইনে বৈচিত্র্য আনা হয়েছে।’
দেশীয় আরেক ফ্যাশন হাউস অঞ্জন’স-এর প্রধান নির্বাহী শাহীন আহমেদ জানালেন, অঞ্জন’স এবার স্লিম ফিট ও এক ছাঁটের পাঞ্জাবিতে গুরুত্ব দিয়েছে। উৎসব ও গরম দুটি বিষয় মাথায় রেখে ফেব্রিকস ব্যবহার করা হয়েছে।
আর্টিস্টি এবার প্রথমবারের মতো কুর্তা আর ক্ল্যাসিক পোলো টি-শার্ট নিয়ে এসেছে তাদের ঈদ আয়োজনে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মিঠুন ভট্টাচার্য জানালেন, মসলিন, সিল্ক ও স্প্যানিশ কটন ব্যবহার করা হয়েছে পাঞ্জাবিতে। মেনজ ক্লাব, এক্সট্যাসি, ক্যাটস আই, ইয়োলোর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো পাঞ্জাবি, ক্যাজুয়াল শার্ট, ফরমাল শার্ট, টি-শার্ট, পোলো শার্ট, জিনস প্যান্টসহ নানা পোশাকের পসরা সাজিয়েছে ঈদ আয়োজনে।
বিবিয়ানা, সাদাকালো, নিপুণ, দেশাল, বাংলার মেলাসহ দেশীয় বুটিক হাউসগুলো ট্র্যাডিশনাল পাঞ্জাবির পাশাপাশি হালকা কারুকাজ করা পাঞ্জাবি নিয়ে এসেছে। নানা ধরনের প্রিন্টের নকশা করা পাঞ্জাবি ছাড়াও টাইডাই করা পাঞ্জাবিও করেছে তারা। যাঁরা একটু বাহারি পাঞ্জাবি চান তাঁদের জন্য রয়েছে সিল্ক, ভয়েল জর্জেট, অ্যান্ডি, জামেবার ইত্যাদি কাপড়ে তৈরি করা পাঞ্জাবি। সেই সঙ্গে জমকালো কাজ করা পাঞ্জাবিও রয়েছে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসের পাঞ্জাবি কালেকশনে।
দেশীয় ফ্যাশন হাউস আড়ংয়ে তিন ধরনের পাঞ্জাবি আছে—ক্যাজুয়াল, এক্সক্লুসিভ ও ওয়েডিং। এমব্রয়ডারি করা ঘন সবুজ, সাদা, নীল, কালোসহ মিশ্রিত রঙের পাঞ্জাবি রয়েছে। আছে স্ট্রাইপড পাঞ্জাবিও। এগুলো সাধারণত সুতির। এক্সক্লুসিভ পাঞ্জাবিগুলো অ্যান্ডি সিল্ক, জামদানি কটন, এমব্রয়ডারিসহ সিল্ক বা এমব্রয়ডারি করা কটনের হয়ে থাকে। আড়ংয়ে ক্যাজুয়াল, এক্সিকিউটিভ ও এথনিক ধরনের শার্ট পাওয়া যায়। রয়েছে নানা কাজ ও কাপড়ের শৌখিন ফতুয়া।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0