বাপ্পি দেবনাথ বলেন, তিনি কুষ্টিয়ায় একটি বেসরকারি কোম্পানির নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। করোনাকালে তিনি কাজ হারান। উপায় না দেখে নিজের গ্রাম পাঁজিয়ায় ফিরে এসে বাড়ির সামনে একটি চা-কফির দোকান দেন। বাজার থেকে একটু দূরে হওয়ায় প্রথমে দোকানটি ভালো চলত না। দোকানটি চালানোর জন্য তিনি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট লাইন নেন। দোকানে ওয়াই–ফাই সুবিধা চালু করেন। ঘোষণা দেন, দোকানে বসে চা-কফি পান করে ওয়াই–ফাইয়ের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন যে কেউ। এরপর জমে উঠে দোকানটি।

বাপ্পি দেবনাথের দোকানের ভোক্তাদের বেশির ভাগ কর্মজীবী তরুণ-যুবক। তাঁরা দোকানে চা-কফি পান করেন আর গান শুনে বা সিনেমা দেখে সময় কাটান। এমন একজন ভোক্তা ডালিম বিশ্বাস। তিনি মাছের ঘেরের ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, বাপ্পির দোকানে তিনি নিয়মিত চা পান করেন। এ সময়ে দোকানের ওয়াই–ফাই সুবিধা নিয়ে তিনি গান শোনেন, সিনেমা দেখেন। আসাদুল ইসলাম নামের এক ভাঙারি ব্যবসায়ী বলেন, অবসর সময়ে তিনি এখানে চা পান করতে আসেন। আর ব্যবহার করেন ফেসবুক।

দোকানের মালিক বাপ্পি দেবনাথ বলেন, স্কুল চলার সময় কোনো শিক্ষার্থী তাঁর দোকানে ঢুকতে পারবে না, এটা স্পষ্ট করে বলে দেওয়া আছে। এ ব্যাপারে তিনি খুবই কঠোর। স্কুলের পোশাক পরা কাউকে দোকানে ঢুকতে দেওয়া হয় না। চা-কফির বিক্রি বাড়াতে এমন ভাবনা কীভাবে মাথায় এল, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এলাকার চা–দোকানে বিনোদনের জন্য টেলিভিশন দেখানো হয়। আবার ক্যারম বোর্ডের ব্যবস্থা আছে। এতে দোকানের পরিবেশ নষ্ট হয়। গন্ডগোল-ঝামেলা হয়। কিন্তু ইন্টারনেট ব্যবহার করলে দোকানে কোনো কথা হয় না। সবাই চা-কফি পান করতে করতে নিঃশব্দে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন।

দোকানে বসে পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল ব্যানার্জি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ পরিচিত। এর কল্যাণে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনও হচ্ছে। এই দোকানে ওয়াই–ফাই সুবিধার সঙ্গে শিক্ষামূলক বিষয় যুক্ত করতে পারলে ভালো হবে। বাপ্পিও এর সঙ্গে একমত হয়ে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কিছু ওয়েবসাইটের ঠিকানা দেওয়ার অনুরোধ জানান। সেটা দোকানে টাঙিয়ে রাখবেন বলে বাপ্পি জানান।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন