বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হাসপাতালের কর্মচারী আসাদুজ্জামান ট্রলি ঠেলে লিফটে করে বিকাশকে তৃতীয় তলায় পৌঁছে দেন। এরপর তিনি ২০০ টাকা বকশিশ দাবি করেন। আসাদুজ্জামানকে ১৫০ টাকা দেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই কর্মচারী রোগীর মুখ থেকে টেনে মাস্ক খুলে ফেলেন। ছটফট করতে করতে বিকাশ মারা যায়।
শচীন চন্দ্র কর্মকার, মৃত কিশোর বিকাশের ছোট চাচা

বিকাশের পরিবারের ভাষ্য, তাদের বাড়ি গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার পুঁটিমারি গ্রামে। উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত সে। অভাবের সংসারে সে লেখাপড়ার পাশাপাশি একটি ওয়ার্কশপে কাজ করত। ওয়ার্কশপ থেকে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় সে আহত হয়। তাকে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিকাশকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গতকাল রাতে স্বজনেরা তাকে এই হাসপাতালে নিয়ে যান।

বিকাশের ছোট চাচা শচীন চন্দ্র কর্মকার এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন। তিনি দাবি করেন, দুর্ঘটনায় আহত বিকাশের শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। এ কারণে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক বিকাশের জন্য মুখে মাস্ক লাগিয়ে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করেন। এরপর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কার্যক্রম শেষে অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ তাকে ট্রলিতে করে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় নেওয়া হয়। হাসপাতালের কর্মচারী আসাদুজ্জামান ট্রলি ঠেলে লিফটে করে তৃতীয় তলায় পৌঁছে দেন। এরপর তিনি ২০০ টাকা বকশিশ দাবি করেন। আসাদুজ্জামানকে ১৫০ টাকা দেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই কর্মচারী রোগীর মুখ থেকে টেনে মাস্ক খুলে ফেলেন। ছটফট করতে করতে বিকাশ মারা যায়।

হাসপাতালের উপপরিচালক আবদুল ওয়াদুদ বলেন, চার সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার মনিরুজ্জামানকে। পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন