সাংসদ ইব্রাহিম তাঁর পোস্টে আরও লেখেন, ‘ওই দিন আমি আমার বক্তব্যের মাধ্যমে মূলত বোঝাতে চেয়েছি, আমি নিজে কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, চোর, ডাকাত, মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীকে আশ্রয়–প্রশ্রয় দিই না। তাদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নিতে আমি ওই বক্তব্যের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও নির্দেশনা দিয়েছি এবং উপস্থিত জনসাধারণকে জনমত তৈরি করে এই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানিয়েছি এবং বলেছি, এতে করে কোনো সন্ত্রাসী মারা গেলে আমি ১ নম্বর আসামি হব, তবুও সমাজে শান্তি–শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।’

কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নয়, বাস্তবিক অর্থে সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিতে তিনি ওই বক্তব্য দিয়েছিলেন উল্লেখ করে সাংসদ ইব্রাহিম ফেসবুক পোস্টে আরও লেখেন, ‘কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে, আমার বক্তব্যকে কাটছাঁট করে উপস্থাপনের মাধ্যমে আমাকে ও আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। আমার নির্বাচনী এলাকার কোনো মানুষ যখন তার কোনো অভিযোগ আমাকে জানায়, তখন মানুষ হিসেবে এটার প্রভাব আমার মাঝেও আসে। আর সে ক্ষেত্রে আবেগপ্রবণ হয়ে অসাবধানতাবশত কিছু কথা মুখ দিয়ে বের হয়ে গিয়েছে। একজন আইনপ্রণেতা হিসেবে আমার হয়তো আবেগপ্রবণ হয়ে এভাবে বক্তব্যটি দেওয়া ঠিক হয়নি।’

আইনপ্রণেতা হিসেবে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল জানিয়ে এইচ এম ইব্রাহিম ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, যে ভুল–বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

গত শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংসদ ইব্রাহিমের বক্তৃতার ৫৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এতে সাংসদ এইচ এম ইব্রাহিমকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি হুকুম দিয়া দিচ্ছি, এই সমস্ত দুষ্কৃতকারীদের গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেললে কিছু হবে না। আপনারা যদি পারেন, আপনারা গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলেন। যদি কেউ আসামি করে আমি মামলার ১ নম্বর আসামি হব যে আমি হুকুম দিয়ে গেছি। এটা আমি আপনাদের কথা দিয়ে গেলাম।’

সাংসদের ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রোববার সোনাইমুড়ী উপজেলার রুবিরহাট বঙ্গবন্ধু সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে সাংসদ হিসেবে কথা বলার ক্ষেত্রে ‘আরও সতর্ক ও সাবধান’ হওয়ার কথা বলেন তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন