default-image

বগুড়ায় পুলিশ কনস্টেবলের ওপর হামলা ও ছুরিকাহতের মামলায় মূল আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। ওই দিনের ঘটনার পর হওয়া তিন মামলার অন্যতম দুই আসামি জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম (মোহন) এবং সদর উপজেলা যুবলীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আমিনুল ইসলাম বগুড়া ছেড়েছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

তবে পুলিশ বলছে, আসামিদের গ্রেপ্তারে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। তাদের কয়েকটি দল এ নিয়ে কাজ করছে। আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অনুকম্পার কোনো সুযোগ নেই।  

মোটর মালিক গ্রুপের কর্তৃত্ব নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের জেরে গত মঙ্গলবার শহরের চারমাথা টার্মিনাল এলাকায় সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের ওপর হামলা ও একজন কনস্টেবলকে ছুরিকাহত করা হয়। পুলিশ বাদী হয়ে ওই দিনই সদর থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ ২০০-২৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করে। ওই দিন ঘটনাস্থল থেকে আটক ১৪ জনের মধ্যে ৩ জনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ওই ঘটনায় জড়িত মোটর যান শ্রমিকদের দুটি পক্ষ পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা করে। তিনটি মামলার আসামি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা।  

পুলিশের ওপর হামলা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো তিন আসামি হলেন বগুড়া শহর যুবলীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক জাকারিয়া আদিল (৩৬), যুবলীগ কর্মী শিবলু সাদিক (২৫) ও মোহন ওরফে ছোট মোহন (২৫)। তাঁদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তিন আসামির মধ্যে যুবলীগ নেতা জাকারিয়া আদিল ২০১৮ সালের ২৯ মার্চ বগুড়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজাহান কবিরকে দিনদুপুরে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা করেন। এটি ছাড়া আরও দুটি হত্যা মামলার আসামি এই আদিল।

বিজ্ঞাপন

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ূন কবির শুক্রবার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, মোটর মালিক গ্রুপের কার্যালয় দখল নিয়ে সংঘাত-সংঘর্ষ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া তিন মামলায় নতুন করে কেউ গ্রেপ্তার হননি। আসামিরা আত্মগোপনে গেছেন। মামলার অন্যতম দুই আসামি মঞ্জুরুল ও আমিনুল বগুড়া ছেড়েছেন। ওসি বলেন, তিন দিনে নতুন করে আসামি গ্রেপ্তার নেই মানে পুলিশ বসে নেই। আসামি গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

পাল্টাপাল্টি মামলার একটি করেছেন সদর উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি ও বগুড়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র আমিনুল ইসলাম। আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুরুল আলমসহ ৫২ জনের নাম উল্লেখ ছাড়া আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এই মামলায় পুলিশ যুবলীগ নেতা জাকারিয়া আদিল, শিবলু সাদিক, মোহন ওরফে ছোট মোহন ছাড়াও শহরের খান্দারের শোভন (২৪), ফুলবাড়ির রফিকুল (৪৪), কাটনারপাড়ার শামিম (৩২), ধুনটের বড়বিলার শিপন (৩০), লতিফপুরের রবিউল আলম (৪৪) ও চকফরিদ এলাকার গোলাম মওলাকে (২৮) গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

অন্যদিকে মঞ্জুরুল আলমের মালিকানাধীন একটি পেট্রলপাম্পে হামলা ও কয়েকটি বাস ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁর ছোট ভাই মশিউল আলম বাদী হয়ে আমিনুল ইসলামসহ ৩৩ জনের নামে এবং ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে আরেকটি মামলা করেছেন। এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে আদমদীঘির আদর্শপাড়ার ফিরোজ (১৯), ধমকপাড়ার লাল বাবু (২৩), গোদারপাড়ার মিজান (২৩), নামাজগড়ের পাশা (৫০) এবং ঠনঠনিয়ার রেজাউলকে (৩২)।

বগুড়ার পুলিশ সুপার মো. আলী আশরাফ ভূঞা প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের ওপর হামলা মামলায় আসামিদের ‘রাজনৈতিক বিবেচনা’য় অনুকম্পা দেখানোর সুযোগ নেই। আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল মাঠে নেমেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন