বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ কার্যালয় এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৮ সালে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া আঞ্চলিক সড়কের ফুলজোড় নদীর ওপর নলকা সেতু নির্মাণ করা হয়। ১৯৯৮ সালে আঞ্চলিক এ সড়ক মহাসড়কে পরিণত হলেও এ সেতুটির কোনো পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করা হয়নি। ১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতু উদ্বোধনের পর থেকে এ সেতু দিয়েই উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ২৩ জেলার যানবাহন চলাচল করছে। এ কারণে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে সেতুটি একেবারেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় সংস্কারকাজ শুরু করা কয়েছে। এ কাজ চলায় এই সেতুর এক পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। একই সঙ্গে মহাসড়কটিতে উন্নয়নকাজ চলমান থাকায় যানবাহনের ধীরগতির কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

সিলেটের শ্রীমঙ্গল থেকে মধ্যরাতে ছেড়ে আসা রংপুরগামী মালবাহী ট্রাকের চালক সোলেমান হোসেন বলেন, ‘দিবাগত রাত তিনটায় বঙ্গবন্ধু সেতু পার হলেও বেলা ১১টা নাগাদ ঝাঐল সড়ক সেতুতেই পড়ে থাকতে হচ্ছে। সামনে কী কারণে আগাতে পারছি না, সেটিও আমরা জানি না। দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা সময় এই মহাসড়কেই অবস্থান করছি। দু–এক ঘণ্টা পরপর একটু করে সামনে আগানো যাচ্ছে। এরপর আবার গাড়ি বন্ধ করে বসে থাকতে হচ্ছে। কতক্ষণের মধ্যে এই অংশটুকু পার হতে পারব, তা জানি না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও যানজটমুক্ত হওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

নাটোরের বড়াইগ্রাম এলাকার ট্রাকচালক আবদুস সবুর বলেন, ‘ভোররাত সাড়ে চারটায় বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে ৭ ঘণ্টা ২০ মিনিট পর মহাসড়কের বাগবাটি এলাকায় এসে আটকে রয়েছি। বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম পাড় থেকে হাটিকুমরুল গোলচত্বর পর্যন্ত স্বাভাবিক সময়ে যেতে সময় লাগে ১০ থেকে ১৫ মিনিট। অথচ যানজটে কারণে লাগছে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা। সিরাজগঞ্জ রোড (হাটিকুমরুল গোলচত্বর) এলাকায় এলেই আতঙ্ক শুরু হয়। এখন দুপুর ১২টা বাজে অথচ যানজটের কারণে এখন পর্যন্ত সকালের খাবার খেতে পারি নাই।’

হাটিকুমরুল হাইওয়ে পুলিশের ট্রাফিক পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বলেন, নলকা সেতুটির অবস্থা খুবই খারাপ। সেতুর দুই পাশে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সেতুর ওপরও রয়েছে খানাখন্দ। তাই এই সেতুটি সংস্কারকাজ চলতে থাকায় একমুখী যান চলাচলের কারণে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।এ ছাড়া মহাসড়কে উন্নয়নকাজ চলমান থাকায় বেশ কিছুদিন ধরে যানজট চলছে ।

default-image

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ট্রাফিক সার্জেন্ট ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘নলকা সেতুর কারণে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। হাটিকুমরুল গোলচত্বর ছাড়িয়ে যানজট ভূঁইয়াগাঁতী বাজার পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে। আমরা যানজট দূর করার চেষ্টা করছি।’
সিরাজগঞ্জ জেলা ট্রাফিক পরিদর্শক সালেকুজ্জামান বলেন, নলকা সেতুতে সংস্কারকাজ শুরু করেছে সড়ক বিভাগ। এ কারণেও যানজটের তীব্রতা বাড়ছে। তবে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে।

সিরাজগঞ্জ সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারুল আলম তরফদার প্রথম আলোকে জানান, সংস্কারকাজ শুরু হওয়ার পর সেতুটির মাঝামাঝি পশ্চিমাংশে ছাদের ওপর বেশ কিছু গর্ত পাওয়া গেছে। যে কারণে সেতুর এসব স্থানে স্টিলের পাটাতন স্থাপন করতে হবে। স্টিলের পাটাতন আনতে বগুড়াতে কর্মচারীদের পাঠানো হয়েছে। সেটি আনা হলেই বিকেল নাগাদ সেতুর সংস্কারকাজ অনেকটাই শেষ হবে। এতে যানজট অনেকটাই কমে যাবে। সেতুটির সংস্কারকাজ শেষ করে আশপাশের সড়ক মেরামত করতে আরও দু থেকে তিন দিন সময় লাগবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন