বঙ্গোপসাগর
ফাইল ছবি

বরগুনার পাথরঘাটা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম সুন্দরবনসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ফেয়ারওয়ে বয়ার কাছে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে গত শুক্রবার রাতে ডুবে যাওয়া ও ভেসে যাওয়া ১৬টি ট্রলার এবং ১৪৪ জেলেকে উদ্ধার করা গেলেও ২টি ট্রলারসহ ১৪ জেলে এখনো নিখোঁজ। উদ্ধার করা হয়েছে দুই জেলের লাশ। তাঁদের বাড়ি বাগেরহাট ও পিরোজপুরে।

আজ রোববার দুপুরে প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন দুবলার চর ফিশারম্যান গ্রুপের সভাপতি কামাল আহমেদ ও বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী। তাঁরা জানান, উদ্ধার ট্রলারগুলোর মধ্যে ১৪টি ডুবেছিল ঘূর্ণিঝড়স্থল ফেয়ারওয়ে বয়া এলাকায় আর বাকি ৪টি ট্রলার তীব্র বাতাস ও ঢেউয়ের তোড়ে ডোবে সাগর কিনারে। কোস্টগার্ডের পশ্চিমাঞ্চলের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন

বঙ্গোপসাগরে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে ১০ ট্রলারডুবি, ৩০ জেলে নিখোঁজ

জেলেরা জানান, পাথরঘাটা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম সুন্দরবনসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ফেয়ারওয়ে বয়ার কাছে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে ১৮টি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে যায়। এসব ট্রলারে ছিলেন অন্তত ১৬০ জেলে।

নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে গতকাল শনিবার সকাল থেকেই জেলে, বন বিভাগ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সদস্যরা অভিযান শুরু করেন। পরে সন্ধ্যার দিকে ইসমাইল হোসেন ও মামুন শেখ নামের দুই জেলের লাশ উদ্ধার করা হয়। মামুন শেখের বাড়ি বাগেরহাটের চিতলমারীতে। তিনি এফবি মা-বাবার দোয়া নামক ট্রলারে ছিলেন। অপর জেলে ইসমাইল হোসেনের বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায়। তিনি এফবি জামিলা নামক ট্রলারে ছিলেন।

উদ্ধারকর্মীরা জানান, হঠাৎ ট্রলার উল্টে যাওয়ায় মামুন ও ইসমাইল পাটাতনের মধ্যে ঢুকে যান। নিহত ব্যক্তিদের লাশ তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আর নিখোঁজ জেলেদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা হলেন—মঠবাড়িয়ার এফবি জামিলা ট্রলারের আলমগীর হোসেন, মোহাম্মদ বাচ্চু, বাগেরহাটের দুর্গাপুর এলাকার শাহিন, মোংলার বকুলতলা এলাকার মফিজুল শেখ ও মঠবাড়িয়ার তুষখালী এলাকার মিজানুর রহমান।

মাছ ধরতে যাওয়া এফবি হাওলাদার ট্রলারের প্রত্যক্ষদর্শী এমাদুল মাঝি প্রথম আলোকে বলেন, আকস্মিক ঝড়ে সাগর যেমন উত্তাল হয়ে পড়ে, তেমনি তীব্র ঘূর্ণিবাতাস হয়। তবে যেখানে ট্রলারগুলো অবস্থান করছিল সেখানেই এই ঘূর্ণিবাতাস সীমাবদ্ধ ছিল। এ সময় তাঁদের ট্রলারটি ওই এলাকা থেকে ৫০ গজ দূরে ছিল। তিনি চারটি ট্রলার ডুবে যেতে দেখেছেন। ১০ মিনিট স্থায়ী এ ঝড় থেমে যাওয়ার পর জেলেরা সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি ট্রলার নিয়ে এগিয়ে গিয়ে আট জেলেকে তাঁদের ট্রলারে তুলে নেন। এসব জেলেদের নিয়ে তাঁরা পাথরঘাটায় ফিরে এসেছেন।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ট্রলারডুবির ঘটনার পর বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতি ও সুন্দরবনের দুবলার চর ফিশারম্যান গ্রুপের সমন্বয়ে শতাধিক ট্রলার নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারের জন্য সাগরে রয়েছে। এখনো অনেক ট্রলার ও জেলে নিখোঁজ।

বাগেরহাটের মোংলায় কোস্টগার্ডের পশ্চিমাঞ্চলের অপারেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার হাসানুজ্জামান আজ দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল সকাল থেকে তাঁরা অভিযানে রয়েছেন। গতকাল সুন্দরবনের বেদারখাল থেকে দুই জেলের লাশ ও জীবিত অবস্থায় তিন জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আজও অভিযান অব্যাহত আছে।