বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ঈশিতার বড় বোন তৈয়বা বেগম বলেন, ২০২০ সালের শেষের দিকে ঈশিতাকে আবার বিয়ে করেন মুনিম সরকার। ঈশিতা রংপুর পলিটেকনিক কলেজে পড়াশোনা করতেন। তৈয়বার অভিযোগ, ঈশিতাকে দ্বিতীয়বার বিয়ে করার পর থেকে যৌতুকের দাবিতে মুনিম প্রায়ই তাঁর বোনকে মারধর করতেন। মাস তিনেক আগে দুই দফায় মুনিমকে তাঁরা দুই লাখ টাকাও দেন। গত মঙ্গলবার দুপুরে মুনিম বাবার বাড়ি থেকে আরও এক লাখ টাকা নিয়ে আসার জন্য ঈশিতাকে চাপ দেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে ওই দিন রাতে ঈশিতাকে মারধর করেন তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
তৈয়বা বলেন, গতকাল রাত আটটার দিকে তাঁকে ফোন করে মুনিম বলেন যে ঈশিতা অসুস্থ, তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।

বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক নাজমা বেগম বলেন, ঈশিতা জাহানকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন তাঁর স্বামী মুনিম সরকার। সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি তাৎক্ষণিক বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানানো হয়। পুলিশ ঈশিতার লাশ ও তাঁর স্বামীকে থানায় নিয়ে যায়।

বদরগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, গৃহবধূর গলায় ফোলা জখমসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য আজ রংপুর মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঈশিতাকে হত্যার অভিযোগ এনে তাঁর মা মার্জিয়া বেগম বাদী হয়ে গতকাল মধ্যরাতে থানায় জামাতাসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ইতিমধ্যে গৃহবধূর স্বামী মুনিম সরকারকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে আজ শনিবার সকালে রংপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তবে গতকাল রাতে বদরগঞ্জ থানাহাজতে আটক মুনিম সরকার দাবি করেন, তাঁর স্ত্রী ঈশিতা জাহান গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তাঁকে তিনি মারধর করেননি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন